• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে ২,৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ওয়ান হেলথ’ প্রকল্প নিচ্ছে সরকার


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:১১ এএম
মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে ২,৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ওয়ান হেলথ’ প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

মানুষের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৭৫ শতাংশ সংক্রামক রোগই জুনোটিক, অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। পাশাপাশি পরিবেশগত কারণও দায়ী। তাই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ও মহামারি মোকাবিলার জন্য 'ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ' নিতে যাচ্ছে সরকার।.

মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদানে জাতীয় সক্ষমতা জোরদারে সরকার 'স্ট্রেংদেনিং হেলথ ইমারজেন্সি প্রিভেনশন, প্রিপেয়ার্ডনেস, রেসপন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স উইথ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ' শীর্ষক প্রকল্প নিতে যাচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক।.

২০৩০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস)।.

এ-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আগমী বুধবার প্রস্তাবটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইস) সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।.

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ.

ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।.

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এর প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৭০ শতাংশ রোগের প্রাদুর্ভাব সাত দিনের মধ্যে শনাক্ত করা এবং তিন দিনের মধ্যে ৭০ শতাংশ ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া। এছাড়া সরকারি বিএসএল-২ ল্যাবরেটরির ৮০ শতাংশ ও বিএসএল-৩ ল্যাবরেটরির ১০০ শতাংশকে বায়োসেফটির (জৈব নিরাপত্তা) জন্য প্রত্যয়ন করাও এ প্রকল্পের লক্ষ্য।.

জরুরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৪৫টি জেলায় এপিডেমিওলজিক্যাল ইউনিট স্থাপন করা হবে। এছাড়া ১৮২টি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন এবং স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ৫০টি উপজেলাকে প্রস্তুত করা হবে। ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।.

প্রাণীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি প্রাণীরোগ-মুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।.

বাংলাদেশে ২০০৭ সালে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবের পর মানব, প্রাণী ও পরিবেশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্যোগে ওয়ান হেলথ নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এ উদ্যোগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি ও ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠা করা হয়। .

নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ.

এ প্রকল্প ওয়ান হেলথ স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় ১১টি মূল উপাদান থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে শাসনব্যবস্থা, কর্মীবাহিনী উন্নয়ন, গবেষণাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মহামারি প্রস্তুতি, সমন্বিত নজরদারি, খাদ্য নিরাপত্তা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষা।.

এ প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ওয়ান হেলথ সার্ভেল্যান্স ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (বিওএইচএসইডব্লিউএস) প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা জলবায়ু ও স্বাস্থ্য তথ্যকে একত্রিত করে রিয়েল-টাইম রোগ শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ করবে। উন্নত ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক, মলিকুলার ডায়াগনস্টিক, জৈব নিরাপত্তা ও ল্যাব ইনফরমেশন সিস্টেম শক্তিশালী করা হবে। একইসঙ্গে এপিডেমিওলজি ও রোগ নজরদারি বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ও স্যান্ডউইচ পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হবে।.

আঞ্চলিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি.

ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ-এর সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি ড. এম মুশতাক হোসেন বলেন, সংক্রামক রোগ ও সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়েই সংক্রমণ শনাক্ত করা গেলে মহামারি বিস্তার রোধ করা সম্ভব। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো '৭-১-৭' কাঠামো—অর্থাৎ সাত দিনের মধ্যে রোগ শনাক্তকরণ সক্ষমতা তৈরি, এক দিনের মধ্যে রিপোর্টিং ও সাত দিনের মধ্যে কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা। .

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিন খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় না নিলে কার্যকরভাবে মহামারি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। .

এ প্রকল্পের লক্ষ্যের মধ্যে আরও রয়েছে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় জাতীয় সার্জ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, জরুরি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) নেটওয়ার্ক গঠন, র‌্যাপিড রেসপন্স টিম প্রতিষ্ঠা ও জরুরি সরবরাহের মজুত গড়ে তোলা। এছাড়া এএমআর নিয়ন্ত্রণ, জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন, ভেক্টরবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, পশু টিকাদান কর্মসূচি ও ডিজিটাল পশু ট্র্যাকিং সিস্টেমও চালু করা হবে।.

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ ঝুঁকি মূল্যায়ন, সিমুলেশন অনুশীলন, তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণ করা হবে। . .

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

স্বাস্থ্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ