• ঢাকা
  • সোমবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

গুরুকে হত্যার ছক ফাঁস, শিষ্য রকি খুন: বগুড়ায় সন্ত্রাসী চক্রের দ্বন্দ্বে চাঞ্চল্য


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া শহরতলীর বনানী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সন্ত্রাসী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন হাবিবুর রহমান রকি (২৮) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বনানী কাস্টমস অফিসের সামনে মহাসড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।.

নিহত রকি বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।.

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বনানী, ফুলদীঘি, বেজোড়া ও গণ্ডগ্রাম এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। কাঠমিস্ত্রির পরিচয়ের আড়ালে চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন হারুন নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় হারুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন রকি ও বাপ্পী নামে আরও দুই যুবক।.

প্রথমদিকে ফুটপাত দখল, দোকান বসিয়ে ভাড়া আদায়, ইট-বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত চাঁদাবাজির মাধ্যমে চক্রটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।.

গত বছরের এপ্রিলে রকি নিজ গ্রুপের সদস্য বাপ্পীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এরপর বাপ্পী ও হারুন একজোট হয়ে রকির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এতে রকি একা হয়ে পড়েন এবং দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।.

একপর্যায়ে রকি তার ‘গুরু’ হারুনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে জানা যায়। হামলার চেষ্টায় হারুনের পরিবর্তে তার ভগ্নিপতি ফজলুর রহমান আহত হন। এরপর থেকেই হারুন কৌশল বদলে রকির সঙ্গে পুনরায় সখ্য গড়ে তোলেন, যা ছিল একটি পরিকল্পিত ফাঁদ।.

বৃহস্পতিবার চাঁদাবাজির হিসাব মেটানোর কথা বলে রকিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। বনানীর একটি নির্জন গলিতে আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিলেন হারুন, বাপ্পী ও তাদের সহযোগীরা। রকি মোটরসাইকেলে পৌঁছালে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে সে মাটিতে পড়ে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।.

ঘটনার পর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত হারুনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।.

এ ঘটনায় রকির মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে হারুন, বাপ্পীসহ আটজনের নামে শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।.

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে সন্ত্রাসী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগির বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কারণ আছে কি না, তা জানতে গ্রেপ্তার হারুনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।. .

Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ