বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় শাহ আলম (২২) নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।.
গ্রেপ্তাররা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান।.
গ্রেপ্তাররা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদীঘি মধ্যপাড়া এলাকার শাহীন শেখ সায়েম (৩২) এবং একই উপজেলার সংসারদীঘি দোবিলা এলাকার আরিফা বেগম (৩২)।
ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, গত ১৬ মে সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামের ফসলি মাঠে আবুল কাশেমের ধানখেতে শাহ আলমের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংসারদীঘি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।.
ওসি জানান, নিহত শাহ আলমের ভাবি আরিফা বেগমের সঙ্গে শাহীন শেখ সায়েমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। আরিফার স্বামী কাজের সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকায় শাহীন রাতে গোপনে আরিফার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। শাহ আলম বিষয়টি জানতে পেরে তার ভাবিকে আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন।.
গত ১৫ মে রাতে শাহীন শেখ সায়েম আরিফা বেগমের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে শাহ আলম বিষয়টি টের পেয়ে হাতে হাসুয়া নিয়ে বাড়ির আঙিনায় ঘোরাফেরা শুরু করেন। পরে আরিফা বেগম বাড়ির পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে শাহীনকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে শাহ আলম তাদের একসঙ্গে দেখে ফেলেন। শাহীন পালানোর চেষ্টা করলে শাহ আলম হাসুয়া নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন।
ওসি আরও জানান, ধাওয়া করতে গিয়ে শাহীন ধানখেতে পড়ে যান। এ সময় শাহ আলম হাসুয়া দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করলে শাহীন তার হাত থেকে হাসুয়া কেড়ে নেন। এরপর শাহ আলমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়।.
ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: