গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস তল্লাশির মুখে পড়েন। তল্লাশির সময় তাদের লাগেজ থেকে মোট ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয় বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা এসব নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করেন।.
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন আইনত নিষিদ্ধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এবং কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অ্যালকোহল আমদানি বা বহন দণ্ডনীয় অপরাধ। সাধারণত এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আইনানুগ মামলা দায়ের করা হয়। তবে এই ঘটনায় মামলা না করে রহস্যজনকভাবে মুচলেকার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।.
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি নোটে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা কাস্টমস আইন ও যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল বহন করেছেন। আটককারী কর্মকর্তা হিসেবে এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার মো. মোতাকাব্বির আলী নোটে স্বাক্ষর করেন এবং রশিদ নম্বর হিসেবে ডিএসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০ উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য জব্দ পণ্য আটক রাখা হয়েছে বলেও নোটে উল্লেখ ছিল।.
এই ঘটনায় প্রটোকল দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তা মুচলেকা দেন এবং সেখানে উল্লেখ করেন যে, আটক অ্যালকোহলের বিষয়ে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন নির্দেশে তারা কেবল প্রটোকল দিতে এসেছিলেন। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মেহজাবীন চৌধুরীর কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি, যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।.
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটককারী কর্মকর্তা মো. মোতাকাব্বির আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো বেআইনি ঘটনায় আটক করার পর বিষয়টি কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মেহজাবীনের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।.
ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য জানতে মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী আদনান আল রাজীব এবং পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা কেউই সাড়া দেননি। অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেহজাবীন ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।.
এই ঘটনার প্রকাশের পর জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে—আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন মামলা হয়নি, তারকাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যতিক্রমী আচরণ হয়েছে কি না, এবং বিষয়টি কেন গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আবারো তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।.
তথ্যসূত্র
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: এশিয়া পোস্ট
আইনগত তথ্য:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮
কাস্টমস আইন, ২০২৩
যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা.
.
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: