• ঢাকা
  • বুধবার, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ভারতের রুশ তেল কেনা বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ভেস্তে দিল ইরান যুদ্ধ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:১৪ পিএম
ভারতের রুশ তেল কেনা বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ভেস্তে দিল ইরান যুদ্ধ
ভারতের রুশ তেল কেনা বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ভেস্তে দিল ইরান যুদ্ধ

বিকল্প না থাকায় তাই এবার ভারত ফের রাশিয়ার তেলের দিকে ফিরে যাচ্ছে। আর নয়াদিল্লির এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রও গত সপ্তাহে ভারতীয় তেল রিফাইনরদের ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে।.

.

গত ৪ মার্চ জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে ইন্ডিয়ান অয়েলের একটি জ্বালানি স্টেশনে একটি পেট্রোল ট্যাঙ্কার ট্রাকের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি। ছবি: ফিরদৌস নাজির/নূরফটো.

.

গত বছর রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ায় ওয়াশিংটন। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে হোয়াইট হাউস ভারতের বেশ কিছু রপ্তানি পণ্যে উচ্চশুল্ক আরোপ করেছিল এবং ক্রেমলিনের দুটি বড় তেল কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।.

এই কৌশল কিছুটা কাজ করেছিল। ভারত পুরোপুরি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর তার নির্ভরতা অনেকটা বেড়েছিল।.

কিন্তু গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার ফলে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই একটি পথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশ থেকে তেল সরবরাহ হয়। এছাড়া তেহরানের প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর,  প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।.

এই পরিস্থিতিতে গত রোববার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।.

বিকল্প না থাকায় তাই এবার ভারত ফের রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকছে। আর নয়াদিল্লির এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রও গত সপ্তাহে ভারতীয় তেল রিফাইনরদের ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে। ফলে তারা এই সময়ের মধ্যে বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে।.

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, 'তেল যাতে বিশ্ব বাজারে সরবরাহ হতে পারে, তাই এটি করা হয়েছে।.

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। পরিহাসের কথা হলো ওয়াশিংটন গত এক বছর ধরে এই আয়ের লাগাম টেনে ধরার সবরকম চেষ্টাই করেছে।.

ভারতের ওপর চাপ.

২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল পরিবহন নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে ক্রেমলিন চীন ও ভারতের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখে।.

বিপুল ছাড়ে বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে।.

১৪ কোটি মানুষের দেশ এবং বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত রাশিয়ার প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম। দেশটি এই রুশ তেলকে তার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হিসেবে অভিহিত করেছে।.

কিন্তু ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছর পর তিনি ভারত ও রাশিয়ার এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেন। গত আগস্টে তিনি ভারতের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।।.

তার যুক্তি, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে লাভবান হচ্ছে নয়াদিল্লি। কারণ ভারত কম দামে রাশিয়ার তেল কিনে তা বিশ্ব বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে।.

এরপর হোয়াইট হাউস ভারতের পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করে, যার অর্ধেক সরাসরি ভারতের রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে এবং রাশিয়ার দুটি বড় তেল কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে, যাতে ক্রেমলিনের বিদেশি অর্থের মূল উৎস বন্ধ করা যায়।.

শেষ পর্যন্ত এই কৌশল কিছুটা কাজও করেছে। মাসব্যাপী আলোচনার পর ওয়াশিংটন গত মাসে নয়াদিল্লির ওপর শুল্ক কিছুটা কমায়, বিনিময়ে ভারতও রাশিয়ার তেল কেনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।.

কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের কারণে সেই প্রতিশ্রুতি এখন ভেস্তে যাচ্ছে।.

বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংকীর্ণ নৌপথের মাধ্যমে ভারত দৈনিক ২৫–২৭ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করে, যা মূলত ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।.

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায়, রাশিয়ার তেল সরবরাহ বাড়ানো সবচেয়ে সহজ সমাধান।.

কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ রাশিয়ান ব্যারেল তেল আটকা পড়ে আছে।.

সংস্থাটি জানিয়েছে, 'এই ব্যারেলের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে দ্রুত ভারতের বন্দরগুলোর দিকে পাঠানো যেতে পারে।'.

কেপলার-এর রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়া মনে করেন, রাশিয়া থেকে প্রায় ৪০–৪৫% ক্রুড তেল কেনার জন্য ভারত নিষেধাজ্ঞার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে।.

যদিও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা পুরোপুরি পূরণ করার ক্ষমতা রাশিয়ার নেই, তবে তাদের এখন সক্ষমতার সর্বোচ্চ উৎপাদন করার এবং উচ্চমূল্য আদায়ের সুযোগ আছে।.

এ বিষয়ে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সাউথ এশিয়া ইনিশিয়েটিভসের পরিচালক ফারওয়া আমের বলেছেন, ৩০ দিনের মার্কিন ছাড় একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা, যা 'সীমাবদ্ধতা, শর্ত এবং সময়সীমা' সাপেক্ষ।.

তিনি বলেন, 'এই ছাড় ভারতকে অস্থায়ী স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু বাজারের জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য এটা যথেষ্ট নয়।'.

ভারতের তেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, দেশটির কাছে প্রায় ২৫ দিনের ক্রুড তেলের মজুদ এবং প্রায় ২৫ দিনের পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে। মোট মজুদ প্রায় ৮ সপ্তাহের ক্রুড তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের জন্য যথেষ্ট।.

সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, 'আমরা অন্যান্য অঞ্চলের সরবরাহ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালির সংকটের ঘাটতি পূরণ করব।'.

শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, 'বিশ্বে তেলের অস্থায়ী ঘাটতি কমানোর জন্য আমরা ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়েছি।'.

চলমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকটে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।.

ফারওয়া আমের বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যত দীর্ঘ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ তত বেশি, এবং তেলের আমদানিকারী অর্থনীতির জন্য, যেমন ভারত, জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা তত বেশি।'.

.

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ