মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সেখানে নতুন করে আরও মার্কিন মেরিন সেনা ও শক্তিশালী রণতরী মোতায়েন করা হচ্ছে। সিবিএস নিউজকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। .
আল জাজিরা জানিয়েছে, জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত নিজস্ব ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে শক্তিশালী উভচর হামলাকারী জাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি'। .
এই বিশাল রণতরী থেকেই মেরিন সেনারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন হবেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনীকে কোনো জরুরি সংকট মোকাবিলা অথবা সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডের কোনো অংশ দখলে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।.
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বে থাকা এই ইউনিটে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা থাকেন, যারা একাধিক যুদ্ধজাহাজে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।.
মেরিন সেনারা জল ও স্থল উভয় পথেই লড়াইয়ে পারদর্শী। তবে ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে এদেরই প্রথম 'গ্রাউন্ড ট্রুপস' বা পদাতিক বাহিনী হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এর আগে এই সংঘাত মূলত আকাশপথ এবং সমুদ্রসীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।.
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ড 'সেন্টকম' এই অতিরিক্ত বাহিনীর অনুরোধ জানিয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাতে অনুমোদন দিয়েছেন।.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর খাগ দ্বীপে থাকা ইরানের সব সামরিক অবকাঠামো মার্কিন বাহিনী 'পুরোপুরি ধ্বংস' করে দিয়েছে।.
এদিকে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা (এসকর্ট) দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে—জানতে চাইলে ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি শীঘ্রই ঘটবে'। .
ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দক্ষিণ কোরীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল মেরিন সেনা নয়, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশও মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনছে।.
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর 'খুব কঠোরভাবে' হামলা চালানো হবে। এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন 'আমি এটি ভেতর থেকে অনুভব করব'। .
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী 'শত্রুদের জন্য কোনো করুণা দেখাবে না'। .
পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আয়তুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া এই দুই সপ্তাহের সংঘাতে তারা এ পর্যন্ত ইরানের ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।.
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি গত বৃহস্পতিবার তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তেহরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখা অব্যাহত রাখবে।.
বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে নিহত ইরানিদের 'রক্তের প্রতিশোধ' নেওয়ার শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যেন তাদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি পরিচালনা করতে না দেয়।. .
Ajker Bogura / Md Shourov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: