মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ.
স্টাফ রিপোটার .
মধ্যরাতে জামায়াতে ইসলামী-র এক সদস্যের মালিকানাধীন কাঠ ও ফার্নিচারের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দোকানের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর।.
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসান আলী শাহ নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী সেক্রেটারি এবং স্থানীয় বাসিন্দা। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সান্তাহার বাঁশহাটি এলাকায় মাছের আড়ৎ সংলগ্ন পূর্ব পাশে অবস্থিত।.
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে হাসান আলী শাহের মালিকানাধীন ওই কাঠ ও ফার্নিচারের দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে তারা দ্রুত নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন।.
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা বলা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে।.
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে গভীর রাতে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা পুনরায় দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।.
ঘটনার পেছনে কারা এবং কী কারণে জড়িত থাকতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী হাসান আলী শাহ বলেন, “যেহেতু আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র একজন সদস্য, তাই আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছি।”.
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, “ক্ষতিগ্রস্ত হাসান আলী একজন ভালো মানুষ। তার সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে বলে আমরা মনে করি না। আমাদের ধারণা, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।”.
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একাধিক সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।.
দ্বিতীয় দফার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দোকানের ভেতরে থাকা সব ফার্নিচার, কাঠ ও অন্যান্য উপকরণ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে অন্তত সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।.
খবর পেয়ে পরদিন সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন আদমদীঘি উপজেলা থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।. .
Ajker Bogura / নিজস্ব প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন: