• ঢাকা
  • বুধবার, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

অখন্ড ভারতে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার মোক্ষম অস্ত্র ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি'


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এফ শাহজাহান : .

অখন্ড ভারতবর্ষ আর রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে ভারত। অখন্ড ভারতে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় দুই বাধা পাকিস্তান আর বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণেই এখন উভয় বাধা ‘ক্ষ-তম’ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত।.

 .

ভারত-তালেবান গলাগলি সম্পর্ক বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে যে অভিনব কৌশলী মোড় নিয়েছে, তার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’। অপরদিকে বাংলাদেশের উদীয়মান ইসলামী শক্তিকে নির্মুল করতেও নানা ছকে চাল দিচ্ছে সেই একই ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’।.

 .

অখন্ড ভারতে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে পাকিস্তানের পারমানবিক সক্ষমতা ধ্বং.স করা এবং বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই ভারতের সামনে। তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার ‘চাণক্য সমীকরণ’ তৈরি করে ফেলেছে ভারত।.

 .

এক ঢিলে দুই পাখি মারার মত পাকিস্তান এবং বাংলাদশকে একই সঙ্গে ঘায়েল করার মোক্ষম অ.স্ত্রও এখন ভারতের তালুবন্দী।.

 .

ভারত একই সাথে পাকিস্তানকে ধ্বংস এবং বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানানোর যে বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে, তার নাম ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’। ভারতের এই ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’ আমেরিকার সবচেয়ে পাওয়ারফুল বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর।.

 .

ভারত অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে সেখানকার ‘দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা’কে নিজেদের স্বার্থরক্ষার কুটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে। ভারতের স্বার্থ রক্ষায় দেওবন্দ মাদরাসার এই কূটনৈতিক মিশনকেই বলা হচ্ছে ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’।.

 .

ভারত ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’র মাধ্যমে পাকিস্তানবিরোধী মিশন বাস্তবায়ন করাচ্ছে আপগানিস্তানকে দিয়ে। আর বাংলাদেশবিরোধী মিশন বাস্তবায়ন করানো হচ্ছে এখানকার ‘কওমীয়াত্ব’কে ব্যবহার করে।.

 .

‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’র মাধ্যমে খুব সহজেই আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে পাকিস্তানকে ধ্বংস করার পথে হাঁটছে ভারত। অপরদিকে ঐ একই ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’র মাধ্যমে খুব সহজেই বাংলাদেশকে ভারেতের করদরাজ্য বানানোর মিশন চালানো হচ্ছে।.

 .

ভারত সরকার দেওবন্দী আলেমদের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদীয়মান এবং সম্ভবনাময় ইসলামী শক্তিকে সাইজ করার জন্য দেওবন্দী ধারাকে লেলিয়ে দিয়েছে। সেই দেওবন্দী মিশন বাংলাদেশের ‘কওমীয়াত্বের’ ওপর ভর করে বাংলাদেশের ইসলামের মূল ধারাকে বিভক্ত করার ফিকির করছে। .

 .

যার অংশ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চর্মনাই পীরকে দিয়ে ইসলামপন্থীদের ঐক্যে ফাটল ধরানো এবং হেফাজতের মহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে দিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে ফতোয়াস্ত্র প্রয়োগ করানো হয়েছে।.

 .

আপরদিকে ঐ একই গোষ্ঠী পাকিস্তানকে ধ্বংস করার জন্য আফগানিস্তানকে সফলভাবে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য পাক-আফগান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ লাগানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে।.

 .

ভারত এই ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’ দিয়ে পাকিস্তানকে সাইজ করার জন্য আফগানিস্তানকে কাজে লাগাচ্ছে। আবার বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানানোর জন্য এখানকার ‘কওমীয়াত্বকে’ খুব সহজেই ব্যবহার করছে ।.

 .

ভারত কৌশলে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চায়। এতে পাকিস্তান এবং আপগানিস্তানকে একসঙ্গেই খতম করতে পারবে ভারত পাকিস্তানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করতে এবং পাকিস্তানের পারমানবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে আফগানিস্তানকে কবজা করে ফেলেছে ভারত।.

 .

পাক-আফগান তথা ভাইয়ে-ভাইয়ে যুদ্ধ লাগানোর এই মোক্ষম অস্ত্র ভারতকে একই সঙ্গে দুই ইসলামী শক্তিকে খতম করার মোক্ষম সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আর এই মোক্ষম সুযোগ তৈরির মূল কারিগর হচ্ছে ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’।.

 .

দেওবন্দের শিক্ষা ও আফগান শিক্ষার্থীদের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ব্যবহার করে তালেবান প্রশাসনের সাথে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ তৈরিতে খুব সহজেই সক্ষম হয়েছে ভারত। ভারতের দেওবন্দী আলেমদের পাণ্ডিত্য ও তাদের লেখা বই, যা আফগানিস্তানের পাঠ্যক্রম ও ধর্মীয় সংস্কারে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেগুলোকে ডিপ্লোম্যাটিক টুল হিসেবে করছে ভারত।.

 .

দেওবন্দি সংস্কৃতি ব্যবহার করে পাকিস্তানপন্থী দেওবন্দি ধারা তথা হাক্কানিয়া মাদ্রাসা থেকে আফগান আলেমদের পৃথক করা হচ্ছে। যা ভারতের কৌশলগত স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।.

 .

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুফতি আমির খান মুত্তাকির দিল্লী সফর এবং দারুল উলুম দেওবন্দে সংবর্ধনা পাওয়া দেওবন্দ ডিপ্লোম্যাসির একটি বড় নিদর্শন, যা ইঙ্গিত করে যে ভারত দেওবন্দী আলেমদের মতাদর্শগত প্রভাব ব্যবহার করে কাবুলের সাথে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ফেলেছে। এ কারণেই পাকিস্তানকে সাইজ করার জন্য ভারত খুব সহজেই আফগানিস্তানকে ব্যবহার করতে পারছে।.

 .

ভারত মূলত দারুল উলুম দেওবন্দের সফ্ট পাওয়ার ইসলামী মতাদর্শকে কাজে লাগিয়ে উপমহাদেশে ইসলামের রাজনৈতিক শক্তিকে খতম করার মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে।.

 .

ভারত বেশ ভালো করেই জানে যে,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের উদীয়মান ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে হিন্দুত্ববাদীদের ‘ঝুলে’ পড়তে হবে।.

 .

তাছাড়া এই দুই ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীদের লড়াই শুরু হলে আফগানিস্তানও ভারতের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে। সে জন্য কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো আগে ভাগেই পাকিস্তানের নিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে লেলিয়ে দিয়েছে ভারত। যাতে আফগানিস্তানকে দিয়েই ভারতের অপর দুই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়। .

 .

ভারতের এই মোক্ষম পরিকল্পনার একমাত্র সক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠেছে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা কেন্দ্রিক ‘দেওবন্দী ডিপ্লোম্যাসি’।. .

Ajker Bogura / এফ শাহজাহান

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ