• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

মুসল্লিশূন্য মসজিদে আকসা, বন্ধ রয়েছে ইতিকাফ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রমজানের শেষ দশ দিন মানেই ফিলিস্তিনিদের পদচারণায় মুখর আল আকসা মসজিদ। প্রতি বছর এ সময় হাজার হাজার মুসল্লি ইতিকাফ ও ইবাদতের জন্য এখানে সমবেত হন। কিন্তু এবারের দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাসে এই প্রথম রমজানের শেষ দশকে প্রায় মুসল্লিশূন্য হয়ে পড়েছে আল আকসা; বন্ধ রয়েছে ইতিকাফ।.

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম রমজানের শেষ দশ দিনে আল আকসা মসজিদ ও জেরুজালেমের পুরনো শহরকে প্রায় মুসল্লিশূন্য করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা অজুহাতে মসজিদটিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।.

মসজিদের করিডোরজুড়ে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। নেই হকারদের হাঁকডাক, নেই ইবাদতকারীদের পরিচিত ভিড়। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যে আঙিনা সাধারণত মানুষের উপস্থিতিতে মুখর থাকে, সেখানে এখন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাকে অজুহাত দেখিয়ে আল আকসাকে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।.

দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে আল আকসায় ইমামতি করা এক প্রবীণ ইমাম নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি জীবনে এমন দৃশ্য কখনো দেখেননি। যেখানে হাজার হাজার মুসল্লি ইতিকাফ করতেন, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। মসজিদের ভেতরের স্পিকারে আজান ও নামাজ হওয়ায় বাইরের মানুষও তা শুনতে পান না।.

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি নিজের বাসার কাছের একটি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ান। সেখানে মুসল্লিরা তাকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আজ যেন আল আকসার কণ্ঠ তাদের মাঝে এসেছে। তখন তার নিজেরও বুক ভেঙে কান্না আসে। প্রায় সবাই একই প্রশ্ন করেন— আল আকসা কবে খুলবে। কিন্তু সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর তার কাছে নেই।.

পেশায় দন্তচিকিৎসক হলেও গত ১৫ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আল আকসায় আজান ও কোরআন তিলাওয়াত করে আসছেন মাজদ আল হাদমি। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বা হামলার আশঙ্কার কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে জেরুজালেমের মুসলিম পরিচয় দুর্বল করার যে প্রচেষ্টা চলছে, এই পরিস্থিতি তারই অংশ।.

জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের পর এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকবার আল আকসায় জুমার নামাজ বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের অবরোধটিকে সবচেয়ে কঠোর ও দীর্ঘ বলে মনে করা হচ্ছে।.

গভর্নরেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে আল আকসার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদ প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। মসজিদের আঙিনায় সশস্ত্র সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও আলোচনা সভাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।.

এছাড়া জর্ডান পরিচালিত ইসলামি ওয়াকফ কমিটির প্রশাসনিক ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করা হলেও নির্দিষ্ট সময় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।.

এ পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তাদের ধারণা, জরুরি অবস্থার অজুহাতে আল আকসার ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জেরুজালেমের ধর্মীয় ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।.

পবিত্র রমজানের শেষ দশকে যেখানে আল আকসা মসজিদে ইবাদতকারীদের ঢল নামে, সেখানে আজ নেমে এসেছে অস্বাভাবিক নীরবতা। ফিলিস্তিনিদের কাছে এই নীরবতা শুধু একটি ধর্মীয় স্থানের শূন্যতা নয়, বরং তাদের অস্তিত্ব ও বিশ্বাসের ওপর গভীর আঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছে।. .

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ