সামিট জানায়, বাংলাদেশে তাদের ফুয়েল টার্মিনালগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার টন এইচএফও মজুত রয়েছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই মজুত দিয়ে তাদের ৬৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন চালানো সম্ভব।.
.
ছবি: সৌজন্যে.
.
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ ভারী জ্বালানি তেল (এইচএফও) কিনে রেখেছিল সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।.
সেই মজুতের কারণে নিকট ভবিষ্যতে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যেতে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।.
সামিট জানায়, বাংলাদেশে তাদের ফুয়েল টার্মিনালগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার টন এইচএফও মজুত রয়েছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই মজুত দিয়ে তাদের ৬৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন চালানো সম্ভব।.
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যখন তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে এই মজুত বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।.
সামিটের দেওয়া তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বোঝাই করা তাদের সর্বশেষ এইচএফও কার্গোটি প্রতি টন প্রায় ৪৪৯.৪৭ ডলার দামে কেনা হয়েছিল।.
এর বিপরীতে, গত ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর প্ল্যাটস বেঞ্চমার্কে এই জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি টন প্রায় ৯৪১.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।.
এই আগাম মজুতের ফলে স্পট মার্কেটের চড়া দামের তাৎক্ষণিক প্রভাব থেকে সামিটের এইচএফও-ভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।.
এই কেন্দ্রগুলো হলো সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার লিমিটেড, এস অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড, সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার ইউনিট-২ লিমিটেড।.
এখান থেকে বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।.
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের প্রধান নিয়ামক যেহেতু জ্বালানির দাম, তাই এই আগাম পরিকল্পনার ফলে অন্তত স্বল্পমেয়াদে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা হলেও কমতে পারে।.
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এই চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিডিবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সামিট।.
দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো খাতের কনগ্লোমারেট সামিট গ্রুপ বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।.
পাশাপাশি কোম্পানিটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট' (এফএসআরইউ)-এরও মালিক ও পরিচালক। দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট ধারণক্ষমতার এই ইউনিটটি এলএনজি আমদানিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।.
তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আগে থেকে মজুত করা জ্বালানির এই সাময়িক স্বস্তি যথেষ্ট নাও হতে পারে।.
সামিট মেঘনাঘাট-১ এবং সামিট মেঘনাঘাট-২ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের উচিত কয়লাভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কয়লা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া।'.
তিনি আরও বলেন, 'একইসঙ্গে এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করা অপরিহার্য। বিপিডিবির লোকসান কমাতে সরকারের উচিত আমদানিকৃত কয়লা, এলএনজি এবং এইচএফও-এর ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা, অথবা অন্তত সব ধরনের আমদানিকৃত জ্বালানির কর কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা।'. .
Ajker Bogura / Md Shourov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: