• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১২ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

দক্ষ শিক্ষক বাদ দিয়ে আ.লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়োগ, পীরগাছায় ভোট কর্মকর্তার নিয়োগে অনিয়ম


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি অনুযায়ী রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরা বাদ দিয়ে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক, বিভিন্ন প্রকল্প কর্মী এবং সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।.

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পীরগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির (নবম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড) শিক্ষক-কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন হলেও মাত্র ৯০ জনকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রকল্পভুক্তদের ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।.

নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার নামও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন, ফরহাদ হোসেনকে চৌধুরাণী উচ্চ বিদ্যালয়ে, আব্দুস সালামকে মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মকুল চন্দ্র রায়কে তালুককান্দি হাজি মহসিনিয়া দাখিল মাদরাসায় এবং নুরুজ্জমান মিয়াকে চৌধুরাণী ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগের এলডিডিপি প্রকল্পের তৌহিদুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমকেও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।.

পোলিং কর্মকর্তাদের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেসমীন বেগম, নেতা সেলিম রেজা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি ল্যাব আফসানা আক্তার, এলডিডিপি প্রকল্পের মাজহারুল আল আমিন এবং অন্যান্য প্রকল্পের কর্মীদের পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কম্পিউটার অপারেটর, কমিউনিটি অর্গানাইজার, নন-এমপিও শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন।.

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে পীরগাছায় দায়িত্বে থাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দালাল ব্যবহার করে নিয়োগ ও ঘুষের ব্যবসা করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না, দরজা আটকে থাকেন এবং দালাল ছাড়া কেউ কাজ করতে পারে না।.

পীরগাছা উপজেলায় মোট ৯০টি কেন্দ্র রয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সংখ্যা ৯০ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৫৩৩ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ১০৬৬ জন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নিতে আগ্রহী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুকদের নিয়োগ দিয়ে দালালের মাধ্যমে পরে ঘুষের ব্যবসা করা হচ্ছে।.

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “আমি শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসরণ করছি। প্রশিক্ষণরত ও অসুস্থ শিক্ষকদের নিয়োগ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক জানান, “যদি ভুল-ত্রুটি থাকে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশোধন করা হবে।”. .

Ajker Bogura / Samsil Arifin

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ