মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এসব সংস্কার ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে যে প্রথম দিন থেকেই বিনিয়োগ বাড়বে, তা নয়। তবে এর ফলে একটি পজিটিভ সিগন্যাল বা ইতিবাচক বার্তা যাবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।’.
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গন থেকে অনিশ্চয়তা কেটেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান। তবে অর্থনীতিতে পূর্ণ গতি ফেরাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শুধু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করাকে 'অপরিহার্য' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।.
সম্প্রতি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে এই অর্থনীতিবিদ এসব কথা বলেন।.
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তা কেটেছে এবং এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এটি ছিল একটি নেসেসারি ফ্যাক্টর [প্রয়োজনীয় শর্ত]। কারণ, বেসরকারি খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন বিনিয়োগ কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়নি।'.
তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাথমিক বাধা কাটলেও একে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে হলে 'সাফিসিয়েন্ট ফ্যাক্টর' বা পর্যাপ্ত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।.
সিপিডির এই ফেলো বলেন, 'বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করায় মনোযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে সঠিক ফিসক্যাল পলিসি [রাজস্ব নীতি], ইজ অব ডুইং বিজনেস [সহজ ব্যবসা পরিবেশ] নিশ্চিত করা, কস্ট অব ডুইং বিজনেস [ব্যবসায়িক ব্যয়] কমানো, ইকোনমিক সেক্টরে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে।'.
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ নিশ্চিত করা গেলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে।.
বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'এসব সংস্কার ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে যে প্রথম দিন থেকেই বিনিয়োগ বাড়বে, তা নয়। তবে এর ফলে একটি পজিটিভ সিগন্যাল বা ইতিবাচক বার্তা যাবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।'. .
Ajker Bogura / Md.Showrov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: