• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

পাকিস্তান - আফগানিস্তান সরাসরি যুদ্ধ শুরু, কেন?


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩০ পিএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। একই সময়ে আফগানিস্তানও পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালিয়ে ১২ পাকিস্তানি সেনা হত্যা করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আজ শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, তারা আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান বৃহস্পতিবার রাতে বিমান হামলা শুরু করে। এর আগে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগান বাহিনী ডুরান্ড লাইন সীমান্ত বরাবর পাকিস্তান সেনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।.

পাকিস্তান এই সামরিক অভিযানকে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও এই সামরিক সংঘাতের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কারণ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ডুরান্ড লাইনকে আফগানিস্তান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। সীমান্তের উভয় পাশে উগ্রগোষ্ঠী, সন্ত্রাসী আশ্রয় এবং শরণার্থী চলাচল সম্পর্কিত অভিযোগ বহু বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ক বৈরীতাপূর্ণ করেছে।.

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কখনো উত্তেজনাপূর্ণ, কখনো সমঝোতাপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সীমান্তে সংঘাতের কারণে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান মন্তব্য করেছেন, ‘রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক দিকে চলে গেছে।’.

পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগানিস্তান নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, আফগান মাটি অন্য দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে ব্যবহার হচ্ছে না।.

বর্তমান সংঘাতের পেছনে পারস্পরিক প্রতিশোধ ও উত্তেজনাও একটি বড় কারণ। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এছাড়া গত সপ্তাহে পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকপূর্ণ গাড়ি হামলায় ১১ সেনাসদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। পরে হামলাকারীকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়।.

পাশাপাশি, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে’।.

গত অক্টোবরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে অন্তত ৭৫ দফা সংঘর্ষ হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল মনে করেন, তালেবান এই পরিস্থিতি তৈরিতে বাধ্য করেছে। তিনি আশা করেন, তালেবানরা পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে।.

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসিএলইডির বিশ্লেষক পার্ল পান্ড্য বলেছেন, ‘আফগান প্রশাসন যদি টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, পরিস্থিতি আরও গুরুতর হবে’। স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড মন্তব্য করেছেন, পাকিস্তান আরও শক্তিশালী হামলা চালাতে পারে।.

পাশাপাশি, আফগান তালেবানদের সামরিক শক্তি পাকিস্তানের তুলনায় কম হওয়ায় তারা সরাসরি প্রতিহিংসামূলক হামলায় কম সক্রিয়। তারা সম্ভবত আত্মঘাতী বোমা হামলার মতো অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করবে। কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান এখন সরাসরি তালেবান সরকারের স্থাপনা লক্ষ্য করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।.

 . .

Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ