ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। দেশটির উদ্যোগে সম্ভাব্য শান্তি বৈঠকের প্রস্তুতির খবর মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার এই উদ্যোগ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।.
.
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগে সামনে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং সেই বৈঠকে সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার অংশ নিতে পারেন।.
.
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, ‘এক-দুই দিনের মধ্যে’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য পাকিস্তানে আসতে পারে। তবে আস্থাহীনতার কারণে ইরান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। অবশ্য এই উদ্যোগের আগে গত রোববার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস।.
.
অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই শান্তি বৈঠকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ছাড়াও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অংশ নিতে পারেন। ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা থাকতে পারেন।.
.
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘গুরুতর পরিস্থিতি’ নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন এবং উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত এক মাসে দুজনের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে।.
.
তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ে জানিয়েছেন, ‘বন্ধুসুলভ কয়েকটি দেশ’ থেকে একটি বার্তা পাওয়া গেছে এবং ওই বার্তায় যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী বলে ইঙ্গিত রয়েছে।.
.
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর গত দুই দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন।.
.
একটি সূত্র জানায়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং যুদ্ধ বন্ধ ও বাকি বিরোধগুলো সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।.
.
এদিকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই পক্ষই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।.
.
পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের গত বছর একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে— যে কোনও একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। চলতি মাসেই শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির সৌদি আরব সফর করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।.
.
একই সময়ে ইসলামাবাদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং তার উত্তরসূরি মুজতবা খামেনিকে অভিনন্দনও জানিয়েছে।.
Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ
আপনার মতামত লিখুন: