যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়ে যাওয়ার পরই নতুন বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে ১০ শতাংশ হারে সব দেশের ওপর শুল্ক ঘোষণা করেন তিনি। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।.
শনিবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি ঘোষণা দেন, একটি অব্যবহৃত বাণিজ্য আইনের অধীনে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ শুল্কারোপের সুযোগ রয়েছে, তা সেই পর্যায় পর্যন্ত বাড়ানো হবে।.
ওই আইনানুসারে, কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আগে এই নতুন শুল্ক প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত বহাল রাখা যাবে।.
তবে রিপাবলিকান-সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস এই শুল্কের মেয়াদ বাড়াবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেসনাল সহযোগীরা। কারণ বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ক্রমেই আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এসব শুল্ককেই দায়ী করছেন।.
১০ শতাংশ শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এখন নতুন ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কও সেদিন থেকেই আরোপ করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।.
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ১২২-এর অধীনে অস্থায়ীভাবে এই নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই শুল্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, ধাতু ও জ্বালানিপণ্যসহ কিছু পণ্যকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।।.
তবে এটি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ দেশগুলো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্ক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।.
ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট শুল্কের বিষয়ে যে 'হাস্যকর, দুর্বলভাবে লেখা ও চরম আমেরিকাবিরোধী রায়' দিয়েছে, সেটি পর্যালোচনার পরই তার প্রশাসন শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। .
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, গত বছর ঢালাওভাবে বৈশ্বিক শুল্কারোপের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। ওই শুল্ক আরোপের জন্য তিনি ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) নামের একটি আইন ব্যবহার করেছিলেন।.
সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আইইইপিএ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে।.
রায়ের পরপরই ট্রাম্প বলেন, তিনি 'আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে লজ্জিত'। একইসঙ্গে তার বাণিজ্য নীতি প্রত্যাখ্যান করা বিচারকদের তিনি 'বোকা' বলে আখ্যায়িত করেন।.
শুল্ক বাতিলের এই রায়টি দিয়েছেন আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারক, জর্জ ডব্লিউ বুশের মনোনীত রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং খোদ ট্রাম্পের মনোনীত দুজন বিচারক—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ।.
অন্যদিকে ক্ল্যারেন্স টমাস, ব্রেট কাভানাউ ও স্যামুয়েল অ্যালিটো—এই তিন রক্ষণশীল বিচারক রায়ের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।.
নতুন এই বৈশ্বিক শুল্ক অবশ্য সব পন্যে সার্বজনীনভাবে প্রযোজ্য নয়। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ট্রাম্প শুক্রবার গভীর রাতে গরুর মাংস ও অন্যান্য কৃষিপণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব পণ্যকে তিনি আগেও সর্বোচ্চ আমদানি করের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।.
পাশাপাশি নতুন এই শুল্কহার বিদেশি গাড়ি ও ইস্পাতের মতো পণ্যগুলোর ওপরও কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে এসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই শুল্ক আরোপ করা আছে। .
ট্রাম্পের শুল্ক তার অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তার মতে, এ শুল্ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই বিনিয়োগে এবং পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তার ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের লাগাম টেনে ধরেছে।.
মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি—অর্থাৎ রপ্তানির তুলনায় অতিরিক্ত আমদানির পরিমাণ—কমানোর জন্য তার এই শুল্কারোপ অপরিহার্য। তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই ঘাটতি ২.১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।.
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায় ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেআইনিভাবে আদায় করা শুল্ক ফেরত চাওয়ার পথও খুলে দিয়েছে। তবে এই অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।.
শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইনি লড়াই ছাড়া এই শুল্কের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না। আর তার দাবি অনুযায়ী, এতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। তবে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে।.
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগের শুল্ক (ট্যারিফ) কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়ার পর, শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি বিশ্বের সব দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর অস্থায়ী শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করবেন। বর্তমান আইনের অধীনে এটিই সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা।.
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার আগে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনসমর্থন ক্রমেই কমেছে। গত সোমবার শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোস-এর জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থনীতি পরিচালনাকে সমর্থন করেছেন, আর এর বিরোধিতা করেছেন ৫৭ শতাংশ মানুষ।.
ভোটারদের কাছে ক্রয়ক্ষমতা এখন অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস অভ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের কেবল রিপাবলিকানদের দখলে থাকা তিনটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।. .
Ajker Bogura / Md Shourov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: