• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখা ও নীতি সুদহার এখনই না কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:২৪ এএম
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখা ও নীতি সুদহার এখনই না কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখা ও নীতি সুদহার এখনই না কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বৈঠকে। প্রয়োজনে ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। .

 .

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে রিজার্ভ ধরে রাখা, নীতি সুদহার এখনই না কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় বাজারের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষ আট অর্থনীতিবিদ। .

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা এসব পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।.

বৈঠকে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ, প্রবাসী আয় এবং ডলার বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই এখনই সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। .

তারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার না করে সংরক্ষণে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে রিজার্ভ থেকে ডলার খরচ করে আমদানি অর্থায়ন না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। .

জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বৈঠকে। প্রয়োজনে ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। .

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও তা এখনই সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে সমন্বয় না করার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, এতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।.

তারা আরও বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া ঠিক হবে না। বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।.

তারা সুপারিশ করেন, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে যে ঋণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা দ্রুত ছাড় করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তেল আমদানির জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে।  .

বৈঠকে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে দেশের প্রবাসী আয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। শ্রমিকদের যাতায়াতে সমস্যা হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যারা রেমিট্যান্স পাঠাতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। .

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত নেবেন না। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। .

অর্থনীতিবিদেরা প্রস্তাব দেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা সময় সময়ে অর্থনীতির অবস্থা বিশ্লেষণ করে নীতি নির্ধারকদের অবহিত করবে। এতে বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে। .

বৈঠকে উপস্থিত এক অর্থনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, গভর্নরকে বিশেষ করে তিনটি পরামর্শ দেওয়া হয়ছে, রিজার্ভ ক্ষয় না করা, কারণ আমাদের তেল ছাড়া আরো অনেক পন্য আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় হয়। তাই তেল ক্রয় করে রিজার্ভ ক্ষয় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত এখনই পলিসি রেট না কমানো উচিত। কারণ, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমলেও এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যাবেন না। তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় বাজারে ডলার রেট যাতে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পায়-  সে বিষয়ে গভর্নরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। .

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নরের পাশাপাশি চারজন ডেপুটি গভর্নর ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।.

অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী, র‍্যাপিড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান।. .

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ