• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ইরানের পক্ষে যুদ্ধের ঘোষণা ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর : মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৫ এএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

ইরানের পক্ষে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরাকভিত্তিক একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী—এমন দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরাকের শিয়া আধাসামরিক জোট Popular Mobilization Forces (পিএমএফ)–এর অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হলে তারা তেহরানের পাশে দাঁড়াবে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য Kata'ib Hezbollah, Harakat al-Nujaba এবং Asaib Ahl al-Haq—যারা অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কারণে আলোচনায় এসেছে। তাদের নেতারা বিবৃতিতে বলেছেন, ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং “প্রতিরোধ অক্ষ”-এর কেন্দ্রীয় শক্তি; ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।.

 .

এই ঘোষণার পেছনে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এসব গোষ্ঠী নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে মিত্র সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান Qasem Soleimani জীবিত থাকাকালে এই আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো বড় আকারের হামলা হলে এসব গোষ্ঠীর সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।.

 .

ইরাকি সরকারের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা দেশের ভূখণ্ডকে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে চায় না। তবে বাস্তবে পিএমএফের অনেক ইউনিট ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হলেও তাদের আদর্শিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তেহরানের সঙ্গে অটুট। এই দ্বৈত বাস্তবতা ইরাককে একটি জটিল অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা, অন্যদিকে ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব।.

 .

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরাকের এসব গোষ্ঠীর ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা, যা সম্ভাব্য হামলাকারীদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে দেওয়া। সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মানে ইরাকের ভেতর নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়া, যা দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখলে বোঝা যায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি হঠাৎ করেই বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।.

 .

সব মিলিয়ে, ইরানের পক্ষে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধের ঘোষণা অঞ্চলজুড়ে শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি কেবল সামরিক অবস্থান নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ—যেখানে ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র ও প্রক্সি শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সামরিক উত্তেজনার মাত্রার ওপর।.

.

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ