• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

যুদ্ধের জেরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সপ্তাহিক রপ্তানির ১,০০০ টিইইউ পণ্য আটকা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৪৪ পিএম
যুদ্ধের জেরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সপ্তাহিক রপ্তানির ১,০০০ টিইইউ পণ্য আটকা
যুদ্ধের জেরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সপ্তাহিক রপ্তানির ১,০০০ টিইইউ পণ্য আটকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সাপ্তাহিক ১,০০০ টিইইউর (বিশ ফুট সমতুল্য ইউনিট) বেশি রপ্তানি পণ্য আটকা পড়েছে। প্রধান শিপিং লাইনগুলো বুকিং স্থগিত করায় ক্রমবর্ধমান স্টোরেজ খরচ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।.

আলু, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও তৈরি পোশাক বোঝাই  কনটেইনারগুলো এখন বিভিন্ন বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পড়ে রয়েছে। শিপিং রুটগুলো ফের চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় রপ্তানিকারকদের বাড়তি ডিপো ও প্লাগিং চার্জ গুনতে হচ্ছে।.

এই অচলাবস্থার প্রথম শিকার হয়েছে দুবাইগামী একটি মৌসুমি আলুর চালান।.

এসআর ইমপেক্স লিমিটেডের ২৮ টনের একটি চালান প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শেষে ১ মার্চ বগুড়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। পরদিন চালানটি জেবেল আলী বন্দরের উদ্দেশে জাহাজে তোলার কথা ছিল। কিন্তু কার্গোটি আর ডিপো ছেড়ে বের হতে পারেনি।.

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শিপিং লাইনগুলো হঠাৎ মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যে বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় কনটেইনারটি এখন একটি বেসরকারি আইসিডিতে পড়ে আছে।.

এসআর ইমপেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্রেশ ফুড অ্যান্ড ফ্রুটস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, 'পণ্য লোড করার সময় হঠাৎ শিপিং লাইন থেকে জানানো হয় যে তারা আর বুকিং নেবে না। আমাদের স্লটও বাতিল করে দেওয়া হয়।' .

তিনি আরও বলেন, 'আলু যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য কোনোরকমে অন্য একটি ডিপো থেকে কনটেইনার জোগাড় করে সেটিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেছি। এখন কেবল আলু সংরক্ষণের জন্যই আমাদের প্লাগিং ও ডিপো চার্জ দিতে হচ্ছে। সামনে কী হবে জানি না।'.

মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, 'প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ৪৫০ টন আলু, আরও ৪৫০ টন কৃষি ও খাদ্যপণ্য এবং প্রায় ৩০০ টন হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিসহ এর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার। এখন এসব চালানের বেশিরভাগই ব্যাহত হচ্ছে।'.

রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। এতে বাংলাদেশের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পের খরচ বাড়িয়ে দেবে।.

ঈদের বাজারে লোকসানের শঙ্কা পোশাক রপ্তানিকারকদের.

এই অচলাবস্থা দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানিকারকদেরও ভাবিয়ে তুলছে।.

যদিও বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি (প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার) মধ্যপ্রাচ্যে হয়, তবু ঈদের কেনাকাটার মৌসুমে এই বাজারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।.

রপ্তানিকারকরা বলছেন, উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে যখন পুরোদমে রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা, ঠিক তখনই এই যুদ্ধ শুরু হলো।.

পোশাক রপ্তানিকারক আবদুস সালাম বলেন, 'কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে পণ্য তৈরি এবং অর্ডার নেওয়া—সব সেরে ফেলেছি আমরা। .

'ক্রেতাদের শোরুমগুলোতে ঈদের স্টক পৌঁছনো দরকার। সাধারণত রমজানের শুরুতেই শিপমেন্ট পাঠানো হয়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল।' .

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না, ওদিকে তাদের শোরুমও ফাঁকা পড়ে আছে। আবার এই সময়ে আমাদের কর্মীদের ঈদ বোনাস আর বেতনও দিতে হবে। আমরা ভীষণ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি।'.

শিপিং লাইনগুলোর বুকিং স্থগিত .

শিপিং কোম্পানিগুলো নিশ্চিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক গন্তব্যে কনটেইনার বুকিং স্থগিত করা হয়েছে।.

এমএসসি শিপিংয়ের হেড অভ অপারেশনস আজমির হোসেন চৌধুরী জানান, ওই অঞ্চলের জন্য কোনো বুকিং না নিতে তাদের কাছে নির্দেশনা এসেছে এবং তারা ২ মার্চ থেকে বুকিং নেওয়া বন্ধ রেখেছেন।.

তিনি বলেন, 'অন্যান্য শিপিং লাইনও একই পথে হাঁটছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সপ্তাহে প্রায় ৮০০ থেকে ১,২০০ টিইইউর মতো রপ্তানি পণ্য পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে।' .

চীন থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি.

এই সঙ্কট শুধু রপ্তানিতেই নয়, দেশের আমদানিতেও চাপ বাড়াচ্ছে। .

সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটায় শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস চীন থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া (ফ্রেইট রেট) বাড়তে শুরু করেছে। .

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক দিনে চীনের বন্দরগুলো থেকে কনটেইনারপ্রতি জাহাজ ভাড়া প্রায় ৩০০ ডলার বেড়েছে।.

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সনংতগঠন বিজিএমইএ-র সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম বলেন, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি আমদানিকারকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।.

তিনি বলেন, 'কিছু ক্ষেত্রে চীন থেকে হাই-কিউব কনটেইনারে পণ্য আমদানিতে ভাড়া প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে।.

'আগের কিছু জটিলতা কাটিয়ে চীনের বন্দরগুলো থেকে রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে, আমদানির প্রবাহও বাড়ছে। কিন্তু এই চড়া জাহাজ ভাড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।'.

বড় শিপিং কোম্পানিগুলোর সেবা সীমিতকরণ .

যুদ্ধকবলিত অঞ্চলটিতে বিশ্বের বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে শুরু করেছে। .

১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও ওমানসহ বেশ কিছু গন্তব্যে নতুন বুকিং নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।.

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতসহ নির্দিষ্ট কিছু বন্দরে সাময়িকভাবে কার্গো সেবা বন্দধ রেখেছে কসকো শিপিং লাইনস। .

তবে কসকো জানিয়েছে, যেসব বন্দরে পৌঁছতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে হয় না—যেমন সৌদি আরবের জেদ্দা এবং আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান ও ফুজাইরাহ—সেখানে তাদের কার্যক্রম চালু থাকবে।. .

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ