• ঢাকা
  • শনিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২১ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

১০% ইউএস ট্যারিফ: পোশাক রপ্তানি বাড়ার আশা থাকলেও কাটছে না অনিশ্চয়তা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২২ পিএম
১০% ইউএস ট্যারিফ: পোশাক রপ্তানি বাড়ার আশা থাকলেও কাটছে না অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন রপ্তানিকারকরা। তবে তারা একই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ঘন ঘন ট্যারিফ বা শুল্ক হার পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে এক ধরনের বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।.

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন রপ্তানিকারকরা। তবে তারা একই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ঘন ঘন ট্যারিফ বা শুল্ক হার পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে এক ধরনের বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।.

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গত রাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটিও বাতিল হয়ে যাবে।.

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রাতে বিশ্বের সকল দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগের পরিস্থিতির মতোই থাকবে।.

রপ্তানিকারকরা বলছেন, ট্যারিফ বা শুল্কের হার কমলে মার্কিন আমদানিকারকরা আগের চেয়ে কম খরচে পোশাক আমদানি করতে পারবেন। এর প্রভাবে দেশটির খুচরা বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পথ সুগম করতে পারে।.

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাবু টিবিএসকে বলেন, "২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল হয়ে সবার জন্য ১০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ হলে, তা হবে মন্দের ভালো। এতে আমেরিকান আমদানিকারকরা আগের চেয়ে কম শুল্কে পণ্য আমদানি করতে পারবে এবং খুচরা ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রির সুযোগ পাবে। ফলে চাহিদা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।".

তবে শুল্ক নীতির অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "দেশটিতে ঘন ঘন শুল্ক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। কখন শুল্ক হার কত হবে—তা নিশ্চিত না হওয়ায় আমদানিকারকরা বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তবে খুচরা বিক্রেতারা তাদের পণ্য সরবরাহ বজায় রাখতে অল্প পরিমাণে হলেও আমদানি অব্যাহত রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অনিশ্চয়তায় রপ্তানি কমতেও পারে।".

দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ টিবিএসকে বলেন, "পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের ক্রয় সক্ষমতা বাড়বে। এতে রপ্তানি বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, তাতেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না; কারণ আগের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ছিল ১৯ শতাংশ।".

তবে এ কে আজাদ মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, "মার্কিন নাগরিকরা এই ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিলের জন্যও আদালতে যাবে। কারণ এ ধরনের শুল্ক আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিদ্যমান বিধি-বিধানের পরিপন্থী।".

.

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ