• ঢাকা
  • শনিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

তুরস্ক-ইসরাইল উত্তেজনা বাড়ছে, সংঘাতের শঙ্কা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এখন শুধু রাজনৈতিক বাকযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি করছে।সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি এরদোয়ানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের কুর্দি জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন ও গণহত্যার অভিযোগ করেন। এর জবাবে তুরস্ক থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলা, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এই কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের বছরে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং ভোটারদের সমর্থন পেতে তিনি তুরস্কবিরোধী অবস্থানকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।এদিকে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এই বিতর্কে যুক্ত হয়েছেন। তিনি তুরস্ককে “নতুন ইরান” বলে মন্তব্য করেন এবং আঙ্কারার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।গাজায় চলমান যুদ্ধ, সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আগেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। এর সঙ্গে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক আরও খারাপ হলে তুরস্ক আজারবাইজান থেকে ইসরাইলে যাওয়া তেল সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাকু-তিবিলিসি-জেহান পাইপলাইনের মাধ্যমে ইসরাইলের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়। এতে বাধা এলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।এ ছাড়া তুরস্ক যদি ইসরাইলি বিমান চলাচলের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের রুট দীর্ঘ হবে, ভাড়া বাড়বে এবং বাণিজ্যিক খরচও বেড়ে যাবে। যদিও সৌদি আরবসহ কিছু আঞ্চলিক আকাশসীমা এখন ইসরাইলের জন্য উন্মুক্ত থাকায় এই প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গাজা যুদ্ধের পর তুরস্ক ইসরাইলের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে কিছু পণ্য এখনো ইসরাইলে পৌঁছাচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো কম হলেও বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।.

.

Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ