.
.
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সময়ে ভিসা ও গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। United States Citizenship and Immigration Services (ইউএসসিআইএস) পহেলা মার্চ থেকে প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধির নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে।.
সংস্থাটি জানিয়েছে, মূলত মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং দীর্ঘদিনের আবেদনজট কমানোর লক্ষ্যেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে এইচ-১বি ভিসা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড—সবক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।.
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরাসরি কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। অধিকাংশ কাজের ভিসা এবং এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের জন্য প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৬৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশায় এই অতিরিক্ত ফি দিয়ে থাকেন। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এই ফি কেবল দ্রুত পর্যালোচনার নিশ্চয়তা দেয়, অনুমোদনের নয়।.
নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ফি-তে ভিন্নতা আনা হয়েছে।.
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার প্রিমিয়াম ফি ২ হাজার ৮০৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯৬৫ ডলার হয়েছে।.
ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩ ক্যাটাগরির কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের ফি এখন ২ হাজার ৯৬৫ ডলার।.
মৌসুমী ও ধর্মীয় কর্মী এইচ-২বি ও আর-১ শ্রেণির জন্য ফি ১ হাজার ৬৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৮০ ডলার করা হয়েছে।.
শিক্ষার্থী ওয়ার্ক পারমিট ওপিটি ও এসটিইএম-ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রিমিয়াম ফি এখন ১ হাজার ৭৮০ ডলার।.
এফ, জে ও এম ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের স্টেটাস পরিবর্তনের ফি বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৫ ডলার।.
ইউএসসিআইএস এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পহেলা মার্চ বা তার পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে পাঠানো আবেদনে যদি পুরোনো ফি যুক্ত থাকে, তবে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে। এতে আবেদনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হতে পারে এবং দ্রুত কাজ শুরু করতে চাওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়তে পারেন।.
মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এই ফি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।.
ইউএসসিআইএস দাবি করেছে, বাড়তি রাজস্ব প্রিমিয়াম পরিষেবা উন্নত করা এবং সাধারণ আবেদনগুলোর জট কমাতে ব্যয় করা হবে। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন—ফি বৃদ্ধির ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি আদৌ বাড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।.
বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বাড়তি খরচ নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মী—উভয় পক্ষের জন্যই বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ী হতে আগ্রহীদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে জট কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে এটি আবেদনকারীদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।. .
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: