• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কলকাতায় খেজুর বয়কট


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:০২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত (ইন্টারনেট)

কলকাতায় এবার ইসরায়েলি খেজুরের বাজারে প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির ব্যবসায়ীরা একযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা জানিয়েছেন, চলতি রমজানে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি করবেন না।.

ব্যবসায়ীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক বা সংগঠনের নির্দেশে নেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগ। তারা মনে করেন, যে রাষ্ট্র নিরীহ মানুষের রক্তের সঙ্গে জড়িত, তার উৎপাদিত পণ্য রমজানের পবিত্র বাজারে স্থান পাবে না। ফলে এই মৌসুমে বড়বাজারে ইসরায়েলি খেজুর পাওয়া যাবে না।
বড়বাজারের খেজুর আড়তদার আনাস বিন আলী জানিয়েছেন, কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বাজারে এখন ইসরায়েলি খেজুর পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ব্যবসায়ীরা একযোগে বয়কট কার্যকর করেছেন। কেউ যেন কোনওভাবেই ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।.

তবে কিছু অসাধু চক্র ইসরায়েলি খেজুরের প্যাকিং বদল করে ‘জর্ডান’, ‘কিং সেলোমান’, ‘রিচ কান্ট্রি’ ইত্যাদি নামে বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মুম্বাই থেকে আসা কয়েকশো কার্টুন খেজুরও কনটেইনারসহ ফেরত পাঠানো হয়েছে।.

খুচরা ব্যবসায়ী শেখ আজহার উদ্দিন বলেন, “রোজার মাসে বিনা বিক্ষোভে প্রতিবাদের জন্য পাইকাররা কার্যকর উপায় বেছে নিয়েছেন। আমরা তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
ক্রেতা জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, “রমজানে আমরা বিদেশি খেজুরের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু ভিন্ন নামে ইসরায়েলি খেজুর বিক্রির খবর শুনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বছর ভারতীয় খেজুরের বাইরে কিছু কিনব না।”.

বর্তমানে বাজারে ইরাক, ইরান, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও সৌদি আরব থেকে আসা খেজুরের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরাক থেকে আসা ‘জাহিদি’ প্রজাতির খেজুর পাইকারি দামে কম হওয়ায় তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আড়তদারদের মতে, রমজানে খেজুরের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, কিছু বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকা এবং মুম্বাই বন্দরে এলসি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলি খেজুরের বয়কটও চাহিদার দিকে প্রভাব ফেলেছে।.

বর্তমান পাইকারি বাজারদর (মানভেদে) হল: জাম্বো মেদজুল প্রতি কেজি ১,৪০০–১,৫০০ রুপি, সাধারণ মেদজুল ৯০০–১,০০০ রুপি, জাহিদি ৮০–৯০ রুপি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম কিছুটা বেড়েছে হলেও বিক্রয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। বড়বাজারে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ধারা একাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে বজায় রয়েছে।.

সূত্র: চ্যানেল ২৪. .

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ