সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে পরিচিত এক টিকটকারকে ঘিরে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্ল্যামারাস সাজপোশাক ও রিলস ভিডিওর মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার ফলোয়ারের একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
জানা যায়, ‘রিহিয়া রিহি’ আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলাম। নারী সেজে নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রোববার (৬ এপ্রিল) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের’ অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েই পদ পেয়েছিলেন। পরে তার নারী রূপে কন্টেন্ট তৈরির বিষয়টি সামনে আসায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বহিষ্কারের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রেদোয়ান ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং কখনও লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি। মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে মজার ছলে নারী সেজে ভিডিও তৈরি করতেন। নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কন্টেন্ট আর তৈরি করবেন না এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চান।
এদিকে, রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলমও ছেলের লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি গুজব বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের অনুকরণে এসব ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল, যা পরিবার সমর্থন করেনি।
ঘটনার পর রেদোয়ান তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন এবং ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে—কেউ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংগঠনের শৃঙ্খলার দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: