• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

দারিদ্র্য থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায়: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৫৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


ছোটবেলায় বহুবার ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান—সেখান থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়া। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র জীবন যেন সংগ্রাম, আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তাল ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়।.


১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদ-এ এক ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আট ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত এবং মা খাদিজে মির্দামাদী ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। শৈশবেই মায়ের কাছ থেকে কুরআন ও ধর্মীয় শিক্ষার হাতেখড়ি নেন খামেনি।
তবে তার শৈশব ছিল দারিদ্র্যে ঘেরা। নিজের স্মৃতিচারণে তিনি উল্লেখ করেছেন, অনেক সময় পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। পুরোনো পোশাকের কারণে সহপাঠীদের কটূক্তির শিকারও হয়েছেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে বিদ্যালয়ে তাকে একসময় ‘অলস’ ছাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে চশমা ব্যবহার শুরু করলে পড়াশোনায় উন্নতি ঘটে এবং তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিতি পান।.


কৈশোরেই সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ জন্ম নেয় তার। লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো ও রোমাঁ রোলাঁর মতো লেখকদের রচনা পড়তেন আগ্রহ নিয়ে। ‘আমিন’ ছদ্মনামে কবিতাও লিখেছেন যৌবনে।.


১৯৫৫ সালে কোম শহরে পড়াশোনার সময় তার পরিচয় হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র সঙ্গে। খোমেনির ইসলামী রাজনৈতিক ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে ধীরে ধীরে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি-র শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। একাধিকবার গ্রেফতারও হন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তার রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত ঘটে। বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পান, পরে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর গঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৮১ সালে এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তার ডান হাত আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাই নিহত হলে খামেনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর Assembly of Experts তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে তার ক্ষমতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। এরপর তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি ইরানের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন।.


নিজের দীর্ঘ শাসনামলে তিনি একাধিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন। কেউ কেউ তার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামো অটুট ছিল। কঠোর অবস্থান, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি ইরানের ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।.


তার জীবন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক, বিশ্লেষণ ও আলোচনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও ব্যাপক। দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে আরোহন—আলী খামেনির গল্প কেবল একজন নেতার নয়, বরং ইরানের আধুনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।. .

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ