এই সেবা পেতে হলে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা রিচার্জ করা যাবে। মেট্রোরেলের ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য ব্যবহৃত এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাসে এখন থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে আগারগাঁওস্থ মেট্রো স্টেশনে এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাস অনলাইনে রিচার্জ প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন।এই সেবা পেতে হলে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা রিচার্জ করা যাবে। রিচার্জ বাতিল করা যাবে ৭ দিনের মধ্যে। তবে ৫ শতাংশ চার্জ কেটে নেওয়া হবে।১৬টি মেট্রো স্টেশনে মোট ৩২ টি এভিএম মেশিন বসানো হয়েছে অনলাইন রিচার্জ চেক করার জন্য।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন বলেন, 'আমরা উন্নত বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে আছি, কিন্তু এই পিছিয়ে থাকা চলবে না। আমরা যেন এক কার্ড ব্যবহার করেই মেট্রোরেল, গণপরিবহনসহ অন্যান্য যাত্রায় টাকা পেমেন্ট করতে পারি। আমরা ভাবছি, টোলের টাকা যাতে একটি কার্ড ব্যবহার করেই পেমেন্ট করতে পারা যায়— সেই ব্যবস্থা চালু করার।'তিনি সবাইকে ডিজিটাল পরিবহনের দিকে আগানোর আহ্বান জানান।ঢাকা পরিবহনে সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, 'লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটায় অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। অনলাইন রিচার্জ সুবিধা ভোগান্তি কমিয়ে নিয়ে আসবে। আমাদের প্রায় ১৬ লাখ কার্ড অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। যেকোনো জায়গায় বসে কার্ড রিচার্জ করা যাবে।'ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক (প্রশাসন) খায়রুল আলম বলেন, 'আমরা ১৬টি স্টেশনে ৩২টি এভিএম মেশিন স্থাপন করেছি। তবে এগুলো অপ্রতুল, আরও বৃদ্ধির চেষ্টা করছি আমরা। একইসাথে আমাদের মেট্রোরেল স্টেশনের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।'ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ডিএমটিসিএল। তাদের নিজস্ব স্থায়ী কার্ডের নাম এমআরটি পাস। অন্যদিকে, ডিটিসিএ-এর সরবরাহ করা স্থায়ী কার্ডের নাম র্যাপিড পাস। এটি মেট্রোরেল ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ব্যবহার করার কথা। আর স্থায়ী কার্ডের লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র নিকাশ ঘর (ক্লিয়ারিং হাউস) ডিটিসিএর অধীন। ঘরে বসে র্যাপিড ও এমআরটি পাস রিচার্জ করার কাজে সহায়তা করছে ডেটাসফট নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।ডিটিসিএ জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলে দুই ধরনের স্থায়ী কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে, র্যাপিড ও এমআরটি পাস। নতুন ব্যবস্থায় দুই ধরনের কার্ডই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো রিচার্জ করা যাবে। তবে টাকা রিচার্জ করার পর গ্রাহককে তার স্থায়ী কার্ডটি একবার অন্তত স্টেশনে থাকা বিশেষ যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে হালনাগাদ করে নিতে হবে, যা অ্যাড ভ্যালু মেশিন (এভিএম) নামে পরিচিত।ডিএমটিসিএল-এর তথ্যমতে, বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী র্যাপিড বা এমআরটি কার্ডে যাতায়াত করেন। বাকি ৪৫ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড।.
যেভাবে অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে.
অনলাইনে রিচার্জ করার জন্য প্রথমবার www.rapidpass.com.bd ওয়েবসাইট/অ্যাপ এ নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে র্যাপিড পাস কার্ডটি ইতোমধ্যে নিবন্ধন করা না থাকলে নিবন্ধন করতে হবে এবং যেকোনো একটি পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে কার্ড রিচার্জ করা যাবে।অনলাইনে রিচার্জ করার পর AVM-এ ট্যাপ করার আগ পর্যন্ত রিচার্জটি Pending/অপেক্ষমাণ দেখাবে। অনলাইন রিচার্জের পর কার্ডটি Add Value Machine (AVM) এ ট্যাপ করে রিচার্জকৃত ব্যালেন্স যুক্ত হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে।রিচার্জ সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইল নাম্বারে একটি এসএমএস প্রদান করা হবে। একটি কার্ডে একবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা (Store Value) পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। এছাড়া একবারে শুধুমাত্র একটি পেন্ডিং অনলাইন রিচার্জ থাকতে পারবে; আগের রিচার্জ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন অনলাইন রিচার্জ করা যাবে না।কার্ড যদি ব্ল্যাকলিস্টেড, রিফান্ডেড বা অবৈধ হয়, তাহলে রিচার্জ করা যাবে না। ব্যবহারকারী তার রিচার্জ হিস্ট্রি অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।.
যেভাবে রিচার্জ বাতিল করা যাবে.
ব্যবহারকারী চাইলে কার্ড AVM-এ ট্যাপ করার আগে ৭ দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিলের জন্য অনুরোধ করতে পারবেন। রিচার্জ বাতিলের ক্ষেত্রে ৫% সার্ভিস চার্জ কর্তন করা হবে।কার্ড ব্ল্যাকলিস্ট জনিত কারণে পেন্ডিং ট্রানজেকশন যেমন অনলাইনে রিচার্জ করা হলেও AVM এ ট্যাপ না করা পর্যন্ত ব্যালেন্স আপডেট করতে না পারলে গ্রাহক রিফান্ড রিকুয়েস্ট করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কর্তন করা হবে।.
Ajker Bogura / suhani Alam
আপনার মতামত লিখুন: