• ঢাকা
  • শনিবার, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৪ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

কারাগারের ফাঁসির সেল থেকে সংসদ ভবন: বাবর, পিন্টু ও আজহারের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কারাগারের ফাঁসির সেল থেকে সংসদ ভবন: বাবর, পিন্টু ও আজহারের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। পৃথক মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তারা দীর্ঘ সময় কারাগারের ফাঁসির সেলে ছিলেন।
হাসিনা সরকারের পতন ও তার ভারতে পালানোর পর তারা কারামুক্ত হন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন এই তিন নেতা।
নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী লুৎফুজ্জামান বাবর
নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
লুৎফুজ্জামান বাবরের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বাড়িবাদেরা এলাকায়। তিনি এর আগেও এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর এই বিজয়কে তার সমর্থকরা “রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে দেখছেন।
টাঙ্গাইল-২ আসনে রেকর্ড ভোটে বিজয়ী আবদুস সালাম পিন্টু
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যা টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। ফলে পিন্টু বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর রাজনীতিতে তার এই প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
রংপুর-২ আসনে জয়ী জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্র থেকে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।
নির্যাতিত নেতা হিসেবে পরিচিত আজহারুল ইসলামের এই বিজয় জামায়াতের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনীতিতে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
একসময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারের ফাঁসির সেলে থাকা এই তিন নেতা এখন জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নাটকীয় ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
এই বিজয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় সাফল্য এবং সমর্থকদের কাছে “বিচারের নামে রাজনৈতিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।.

.

Ajker Bogura / Samsil Arifin

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ