বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, ফলে প্রায় ৩৫ বছর পর দেশটি একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং বাংলাদেশের নেতৃত্বের ধারায় একটি বড় প্রতীকী পরিবর্তনের সূচনা।
১৯৯১ সাল থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নারী নেতৃত্ব—বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৮৮ সালে স্বল্প সময়ের জন্য কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় চললেও বর্তমান নির্বাচনের ফলাফল সেই ধারায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে দলের নেতৃত্বকে পুনর্গঠিত করেন। নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে তিনিই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের দ্বার খুলে দিয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্কের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে অনেকেই গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো বড় দায়িত্ব সামনে রেখে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার ঘটনা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের নেতৃত্বের দীর্ঘ নারীনেতৃত্বের যুগের পর একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।.
Ajker Bogura / Samsil Arifin
আপনার মতামত লিখুন: