ইরানকে এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, সেটি হতে পারে কাল রাতে: ট্রাম্প.
ইরান যদি তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত না হয়, তবে 'এক রাতেই' পুরো দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ব জ্বালানি পথটি পুনরায় সচল করার জন্য তিনি তেহরানকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।.
ওয়াশিংটন ডিসির সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি 'গ্রহণযোগ্য' চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের কিছু 'যুক্তিবাদী' নেতা 'সততার সঙ্গে' আলোচনা করছেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।.
ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং দেশটির ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।.
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করার ঘটনাটিকে ট্রাম্প 'বীরত্বপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করেন।.
তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, 'পুরো দেশটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে—আর সেই রাতটি হতে পারে আগামীকালের (মঙ্গলবার) রাত।' .
তথ্যসূত্র: বিবিসি.
চুক্তি না করলে ইরানের প্রতিটি সেতু ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে: ট্রাম্প.
ইরান যদি যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটির প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এবার তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি।.
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইরানকে 'ক্রেজি বাস্ট*আর্ডস' বলে গালিগালাজ করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি পরোয়া করি না।' যারা তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকানো হচ্ছিল।.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) মধ্যরাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা উল্লেখ করেননি, তবে এর আগে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা শুরু হবে।.
ট্রাম্প আরও মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধ শেষে ইরানকে পুনর্গঠনের একমাত্র পথ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়া। তিনি বলেন, "আমরা হয়তো তাদের দেশ পুনর্গঠনে সহায়তা করতেও পারি।" এমন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যুক্তরাষ্ট্র সেটিই পছন্দ করবে বলে তিনি জানান।.
একই সঙ্গে ট্রাম্প আবারও ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেছেন এই যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার জন্য। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের নামও উল্লেখ করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এই অভিযানে সহায়তা করছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।.
তথ্যসূত্র: বিবিসি.
শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা ইরানি যোদ্ধাদের দমাতে পারবে না: মুজতবা খামেনি.
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের গুপ্তহত্যা করে ইরানি বাহিনীকে দমানো সম্ভব নয়। সোমবার ভোরে রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।.
মজিদ খাদেমির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে খামেনি বলেন, তিনি কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং প্রতিরক্ষা খাতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেবা দিয়ে গেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, 'ইসলামি ইরানের অদম্য যোদ্ধারা এবং আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন এক সুউচ্চ ও সুগভীর ফ্রন্ট তৈরি করেছে যে, সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধের মাধ্যমে তাদের জিহাদি আদর্শের সংকল্পে সামান্যতম ফাটলও ধরানো সম্ভব নয়।' .
ছবি: রয়টার্স
মুজতবা খামেনি এই মন্তব্যগুলো একটি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে তার বাবা আলী খামেনিই নিহত হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।.
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানজুড়ে কয়েক ডজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। গোয়েন্দা প্রধান খাদেমি হত্যার বিষয়টি তেহরান এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ—উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। কাটজ খাদেমিকে আইআরজিসি-র শীর্ষ তিন নেতার একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন।.
এদিকে সোমবারই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে 'নির্মূল' করেছে। আসগর ২০১৯ সাল থেকে ওই ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।.
তথ্যসূত্র: সিএনএন.
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ইরান.
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের একদিন আগে এই ঘোষণা এল। উল্লেখ্য, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।.
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, 'ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে।' যদিও সংবাদ সংস্থাটি তাদের সূত্রের নাম বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।.
পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ইরনা আরও জানিয়েছে, '১০ দফার এই জবাবে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই সংঘাতের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের ওপর জোর দিয়েছে।'.
তেহরানের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ পারাপারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা (প্রটোকল), যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।.
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তেহরান ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হবে না এমন নিশ্চয়তা চেয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে তারা।.
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান.
ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর.
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাদের বাহিনী এ পর্যন্ত ১৩ হাজারেরও বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।.
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম আরও জানায়, এ পর্যন্ত ইরানের ১৫৫টিরও বেশি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। বাহিনীটি উল্লেখ করেছে যে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'তে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং সাবমেরিনের পাশাপাশি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ও বি-৫২ বোমারু বিমানের একটি বিশাল বহর অংশ নিচ্ছে।.
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা.
যুদ্ধে আমরা 'জিতেছি', আমরাই হরমুজে টোল বসাব: ট্রাম্প.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায় করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এই জলপথের ওপর সরাসরি মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হবে।.
গত সোমবার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানকে যদি এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তিনি সেই চুক্তি মেনে নেবেন কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমরা টোল আদায় করলে কেমন হয়? ইরানকে এই সুযোগ দেওয়ার চেয়ে আমি নিজেই তা করতে পছন্দ করব। আমরা কেন নেব না? আমরা তো বিজয়ী। আমরা জিতেছি।'.
২০১৮ সালে তোলা ছবিতে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই তিনি এই দাবি করে আসছেন, যদিও ইরান এই অঞ্চলে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবরোধ এখনো বজায় রেখেছে।.
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা.
সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম, কিন্তু আমেরিকানরা চায় আমরা দেশে ফিরে আসি: ট্রাম্প.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি ইরানের তেল 'দখল' করতে চান—তবে আমেরিকানরা এই যুদ্ধের অবসান চায় বলেই তিনি তা করছেন না।.
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বার্ষিক ইস্টার উৎসবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'সুযোগ থাকলে আমি সব তেল দখল করতাম, কারণ তা নেওয়ার জন্যই সেখানে আছে। এ নিয়ে তাদের (ইরান) কিছুই করার সাধ্য নেই।'.
ছবি: রয়টার্স
তিনি আরও বলেন, 'দুর্ভাগ্যবশত আমেরিকানরা চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। আমার ইচ্ছামতো চললে আমি তেল নিতাম, নিজের কাছে রাখতাম এবং তা থেকে প্রচুর অর্থ আয় করতাম। পাশাপাশি আমি ইরানি জনগণেরও এখনকার চেয়ে অনেক ভালো দেখাশোনা করতাম।.
Ajker Bogura / Md Shourov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: