জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। একইসঙ্গে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনও রহিত করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিলে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের শুধু তালিকাভুক্ত নয়, সরাসরি কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা যাবে। এই সংশোধনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
বিরোধীদলের আপত্তি, স্পিকারের প্রত্যাখ্যান
বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিলের তুলনামূলক বিবরণী হাতে পাওয়ার পর পর্যাপ্ত সময় না থাকায় তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। তবে স্পিকার জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এ পর্যায়ে আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের যুক্তি: জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
বিল পাসের প্রস্তাবের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠন” নিষিদ্ধ করার আইনি কাঠামো। পূর্ববর্তী আন্দোলন ও জনমতের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ও আইনগত পরিবর্তন
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন এনে সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এর পরদিন নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর দলটির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইন রহিত
একই অধিবেশনে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) বিল’ও পাস হয়। সরকার জানায়, একটি নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান বৈষম্যমূলক হওয়ায় আইনটি বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অধিকাংশই সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিলটি অন্যতম, যা শেষ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাস হয়েছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: