• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১১ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে ৭ মাসে ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫২ এএম
বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে ৭ মাসে ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাড়তি ট্যারিফের মুখে চীন ও ভারত ইউরোপমুখী হওয়ায় বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের জন্য সেখানে মূল্যভিত্তিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদাও কমতির দিকে।.

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। বাড়তি প্রতিযোগিতা ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কম থাকায় এ পতন হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।.

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৯৮ শতাংশ কমেছে।.

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাড়তি ট্যারিফের মুখে চীন ও ভারত ইউরোপমুখী হওয়ায় বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের জন্য সেখানে মূল্যভিত্তিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদাও কমতির দিকে।.

এছাড়া ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ায় ভবিষ্যতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা।.

ইউরোপে বাড়ছে প্রতিযোগিতা.

ইউরোপের পোশাক পণ্য আমদানির তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে অ্যাপারেল বা পোশাক পণ্যের আমদানি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।.

ইপিবি বাংলাদেশের তথ্য বলছে, ইইউভুক্ত ২৭ দেশে গত সাত মাসে বাংলাদেশ ১১.৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১১.৮১ বিলিয়ন ডলার।.

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "বিশ্বব্যাপী অ্যাপারেলের ভোগ কমে গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তুলনায় বাড়তি ট্যারিফের কারণে চীন ও ভারত ইউরোপের বাজারে কম দামে অর্ডার নিয়ে দরকষাকষি করেছে। ফলে প্রতিযোগিতায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি।".

তিনি বলেন, "বায়ারদের চরিত্রই এমন—যেখান থেকে কম দামে পাওয়া যায়, সেখান থেকেই তারা পণ্য কেনে। সে কারণেই ওই বাজারে আমরা পিছিয়ে গেছি।".

গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে মিশ্র চিত্র.

বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইউরোপের ২৭টি দেশের বাজারে। যুক্তরাজ্যসহ এই অংশ প্রায় ৬০ শতাংশ।.

একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় জার্মানিতে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে জার্মানিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে।.

একই সময়ে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি ও সুইডেনের মতো বড় বাজারেও রপ্তানি কমেছে। তবে একই সময়ে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো অন্যান্য বড় বাজারে রপ্তানি বেড়েছে।.

ইপিবির তথ্য বলছে, গত সাত মাসে একক বাজার হিসেবে সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামান্য কমেছে। পাশাপাশি নন-ট্র্যাডিশনাল মার্কেট বা অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।.

তবে একই সময়ে কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে।.

সার্বিকভাবে গত সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২২.৯৮ বিলিয়ন ডলার।.

শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, "ইউরোপের সঙ্গে ভারতের নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি করতে পারবে। এর ফলে আগামী দিনে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।. .

Ajker Bogura / Md.Showrov Hossain

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ