ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।.
শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি উপস্থাপন করবেন। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেবে।.
এদিকে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা মঙ্গলবার পর্যন্ত অফিস করতে পারবেন। ফলে দিনটি বর্তমান সরকারের শেষ কার্যদিবস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে এবং উপদেষ্টারাও দায়িত্ব ছাড়বেন।.
সচিবালয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি.
সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ উপদেষ্টা ইতোমধ্যে নিজ নিজ দপ্তর ও সরকারি বাসা গুছিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। জমা দেওয়া হয়েছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও সম্পদের হিসাব। কেউ কেউ সরকারি বাসা ছাড়ার আবেদনও করেছেন। সচিবালয়ে এখন বিদায়ের আবহ স্পষ্ট।.
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ২০ জন সদস্য।.
সরকারি বাসা ছাড়ছেন উপদেষ্টারা.
জানা গেছে, নতুন সরকারের মন্ত্রী-উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা পদাধিকারবলে বিশেষ শর্তে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট বা বাংলো বরাদ্দ পান। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা হস্তান্তর করতে হয়। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।.
উপদেষ্টাদের প্রতিক্রিয়া.
অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা নিয়ম অনুযায়ী সবাই জমা দিচ্ছে।”.
অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিজের কাজের মূল্যায়নে তিনি ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন। তার ভাষ্য, “অনেক উদ্যোগ শুরু করা গেলেও সব শেষ করা সম্ভব হয়নি।”.
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমরা বাড়তি কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করিনি—এই সন্তুষ্টি নিয়ে যাচ্ছি। সবকিছু দেড় বছরে সম্ভব নয়।”.
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, মন্ত্রিসভা গঠনের দিনই তাদের কার্যক্রম শেষ হবে।.
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের দপ্তর জানিয়েছে, তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনো সরকারি বাসা গ্রহণ করেননি।.
ফরিদা আখতার বলেন, “আমি ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। আমাদের কাজ ছিল উৎপাদন নিশ্চিত করা।”.
বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনও কোনো সরকারি বাসা বা গাড়ি নেননি। তিনিও কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন।. .
Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ
আপনার মতামত লিখুন: