হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় আহত হয় হুজাইফা। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মস্তিষ্কে এখনো গুলি রয়ে গেছে। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে, যা চিকিৎসার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।.
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, হুজাইফার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিছুক্ষণ পর মেডিক্যাল বোর্ড বসে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।.
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে। মংডু টাউনশিপের আশপাশে সরকারি জান্তা বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ এবং বোমা বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র কয়েকটি গোষ্ঠী। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ওপারের বিস্ফোরণে টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে, আর ছোড়া গুলি এসে পড়ছে বসতবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।.
হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ঘটনার আগের রাতে গোলাগুলির শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কে ছিল। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি বাইরে খেলতে বের হয়। এ সময় আবারও সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়।.
ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।.
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: