• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা: “আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি, ট্রাইব্যুনাল পক্ষ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩০ এএম
রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা: “আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি, ট্রাইব্যুনাল পক্ষ
রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা: “আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি, ট্রাইব্যুনাল পক্ষ

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি তার বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, হাসিনা বলেছেন, এই রায় “ একটি অনির্বাচিত সরকারের উগ্রপন্থী ব্যক্তিদের নগ্ন ও খুনি উদ্দেশ্য” প্রকাশ করেছে।.

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) রায় ঘোষণার পরপরই এক বিবৃতিতে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিনা।.

হাসিনার এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি। যেখানে তিনি তার অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।.

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি তার বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, হাসিনা বলেছেন, এই রায় " একটি অনির্বাচিত সরকারের উগ্রপন্থী ব্যক্তিদের নগ্ন ও খুনি উদ্দেশ্য" প্রকাশ করেছে।.

এসময় হাসিনা আইসিটিতে আনীয় সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালত তাকে বা তার দল আওয়ামী লীগকে "আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ" দেয়নি। তিনি ট্রাইব্যুনাল ও এর সদস্যদের পক্ষপাতদুষ্ট অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, বিচারক ও আইনজীবীদের কেউ কেউ বর্তমান প্রশাসনের প্রতি "জনসম্মুখে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন"।.

তিনি বলেন, "স্পষ্টভাবে বলছি—আইসিটির আনা অভিযোগগুলো আমি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করি। গত বছরের জুলাই ও আগস্টে রাজনৈতিক বিভাজনের উভয় পক্ষের মৃত্যুতেই আমি শোক প্রকাশ করি। কিন্তু আমি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা কখনোই বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ দিইনি।".

শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন, "আমাকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতেও দেওয়া হয়নি। নামের সঙ্গে 'ইন্টারন্যাশনাল' শব্দটি থাকলেও আইসিটিতে এর কোনো প্রতিফলন নেই… এটি নিরপেক্ষও নয়।" রায় ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকাশিত এই বিবৃতিতে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে "সাজানো নাটক" বলে আখ্যায়িত করেন।.

বিবৃতিতে হাসিনা তিনটি যুক্তি দেন, এগুলো হলো:.

১. যেসব জ্যেষ্ঠ বিচারক বা সিনিয়র আইনজীবী আগে সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন, তাদের হয় অপসারণ করা হয়েছে অথবা ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।.

২. আইসিটি কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ নেতাদেরই বিচার করেছে।.

৩. ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ অন্যান্যদের ওপর নথিভুক্ত সহিংসতার ঘটনায় অন্য রাজনৈতিক দলের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি।.

'বাংলাদেশিদের বোকা বানানো যাবে না'.

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হাসিনা দাবি করেন, "নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বিশৃঙ্খল, সহিংস ও সামাজিকভাবে পশ্চাৎমুখী প্রশাসনের অধীনে কষ্টে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশিরা [এই রায়ে] প্রতারিত হবে না…".

তিনি আরও বলেন, "এই কথিত আইসিটি কখনোই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি… বরং এর লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে বলির পাঁঠা বানানো এবং ড. ইউনুসের ব্যর্থতা থেকে বিশ্বকে অন্যদিকে সরিয়ে রাখা।".

হাসিনা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, এনজিও ও আইএমএফসহ নিরপেক্ষ সংস্থাগুলো এসব তথ্য "প্রমাণিত সত্য" হিসেবে তুলে ধরেছে। আমি বলতে আরও বলতে চাই, "বাংলাদেশের একজন নাগরিকও তাঁকে (ইউনুসকে) ভোট দেয়নি।".

তিনি ঘোষণা করেন, যথাযথ আদালতে বিচার হলে তিনি তাঁর অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। "এই কারণেই," তিনি বলেন, "আমি বারবার অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছি—এই অভিযোগগুলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে।".

আইসিটির রায়:.

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইসিটির কার্যক্রম শুরু হয়।.

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। এরমধ্যে শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।.

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।. .

Ajker Bogura / Most.Sohana Alam

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ