• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

গোপালগঞ্জে সমাবেশে সংঘর্ষে এনসিপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই দায়ী: তদন্ত কমিশন


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫১ এএম
১৬ জুলাই বিকেলে এনসিপির সমাবেশে হামলার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা পুলিশের স

গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে ছিল না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।১৬ জুলাই বিকেলে এনসিপির সমাবেশে হামলার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।গত জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মী ও সমর্থকসহ উভয় পক্ষই দায়ী বলে বিচার বিভাগীয় তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিকী বিবিসি বাংলাকে এ তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানিয়েছেন।সাজ্জাদ সিদ্দিকীর বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, প্রতিবেদনে ৮-১০টি সুপারিশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পাঁচটি করণীয় বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এনসিপি-র সারাদেশব্যাপী কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে 'মার্চ টু গোপালগঞ্জ' রাখার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাজ্জাদ সিদ্দিকী বিবিসিকে বলেন, 'নাম পরিবর্তনটা স্থানীয়দের কাছে উসকানিমূলক মনে হয়েছে। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসির গাড়িতে হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে সমাবেশ করতে চাওয়া এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধ—এই বাস্তবতার সংঘর্ষই পরিণত হয় সহিংসতায়।'.

তিনি আরও বলেন, 'সমাবেশে "মুজিববাদ মুর্দাবাদ" স্লোগান স্থানীয়দের ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভ উসকে দেয়। অনেকে ভেবেছিলেন শেখ মুজিবের সমাধিতে হামলা হতে পারে। এরপর মসজিদে ঘোষণা দিয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে আসে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।'.

বিবিসি বলছে, কমিশন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের অধিকাংশের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।.

এ বিষয়ে সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, 'দলীয় লোকজনের নেতৃত্বেই স্থানীয়রা সমবেত হয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করে।'.

সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনীর সহায়তায় অবরুদ্ধ এনসিপি নেতাদের উদ্ধার করা হয়।.

কমিশনের প্রতিবেদনে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্তত ১৫ দিন আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।.

এছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্যে শব্দচয়ন ও বাক্য ব্যবহারে সতর্কতা, বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে আগাম সমন্বয় রাখার কথা বলা হয়েছে।.

'আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন যেকোনো মবের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে উদাসীন না হয়, সেই পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে,' বলেন সিদ্দিকী।.

কমিশন গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও সুপারিশ করেছে।.

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং গোপালগঞ্জে কারা কর্তৃপক্ষের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে পুরস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।.

গুলির তদন্ত পৃথকভাবে চলছে.

সংঘর্ষে গুলিতে পাঁচজন নিহত হন। চারজনের মরদেহ পরে কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়।.

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার বিবিসিকে জানান, গুলিতে মৃত্যুর বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণ ছিল 'রক্তক্ষরণ ও শক', যা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতির।.

তবে কার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধিতে ছিল না।.

সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, 'এটা টেকনিক্যাল বিষয়। দায় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনে ফরেনসিক বা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।'.

বিবিসি জানিয়েছে, গোপালগঞ্জের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন গত সেপ্টেম্বরের শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হলেও এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।.

সিদ্দিকী বলেন, 'প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। জনগণকে ওয়াকিবহাল করা সরকারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।'.

.

Ajker Bogura / PS Hossain

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ