• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৪ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

চানখাঁরপুল হত্যা মামলা: কম সাজায় অসন্তোষ প্রসিকিউশনের, দণ্ড বাড়াতে করবেন আপিল


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:১৩ পিএম
চানখাঁরপুল হত্যা মামলা: কম সাজায় অসন্তোষ প্রসিকিউশনের, দণ্ড বাড়াতে করবেন আপিল
চানখাঁরপুল হত্যা মামলা: কম সাজায় অসন্তোষ প্রসিকিউশনের, দণ্ড বাড়াতে করবেন আপিল

তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ সবার ওপরই শিরোধার্য এবং আমরা তা মানছি। কিন্তু যেহেতু আপিল বিভাগ রয়েছে, তাই এই কম সাজার বিরুদ্ধে আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করবো। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা আরও পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’.

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত ৬ হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন। আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও কয়েকজনকে কম সাজা দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে দণ্ড বাড়াতে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।.

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষণার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রসিকিউশনের এই অবস্থানের কথা জানান।.

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে চানখাঁরপুল এলাকায় মুক্তিকামী ছাত্রজনতা যখন অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, যা যথার্থ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।.

তবে অন্য আসামিদের সাজার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাজুল ইসলাম বলেন, 'যারা সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছেন, যাদের ভিডিওতে গুলি চালাতে দেখা গেছে এবং যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু না থাকা সত্ত্বেও রাইফেল নিয়ে গুলি করেছেন; তাদের কম সাজা দেওয়া হয়েছে। একজনকে ছয় বছর, একজনকে চার বছর এবং বাকি তিন কনস্টেবলকে তিন বছর করে সাজা দিয়েছেন আদালত। আমরা মনে করি, এই সাজা ন্যায়সংগত হয়নি।'.

তিনি আরও বলেন, 'আদালতের আদেশ সবার ওপরই শিরোধার্য এবং আমরা তা মানছি। কিন্তু যেহেতু আপিল বিভাগ রয়েছে, তাই এই কম সাজার বিরুদ্ধে আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করবো। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা আরও পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'.

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'এই আন্দোলনে আমাদের তাজা তরুণরা জীবন দিয়েছেন। যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছেন, তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর এত অল্প সাজা হওয়াটা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আমরা প্রত্যেকেরই মৃত্যুদণ্ড চাইবো।'.

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানে হাজার হাজার রাউন্ড বুলেট ছোড়া হয়েছে, ১৪০০ মানুষ শহীদ ও হাজার হাজার আহত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে কার গুলিতে নির্দিষ্ট কে মারা গেছেন, তা আলাদাভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি বিধান। সুতরাং এই সাজা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে যাচ্ছে না বলেই আমরা মনে করি। অপরাধের পর্যবেক্ষণ সঠিক হলেও দণ্ড নির্ধারণের (সেনটেনসিং) ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।'.

কনস্টেবল সুজনকে কেন তিন বছরের সাজা দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আদালত স্বীকার করেছেন যে সুজন গুলি চালিয়েছে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে পেরেছে। কিন্তু আদালত মনে করেছেন তারা কনস্টেবল হিসেবে ঊর্ধ্বতনদের (সুপিরিয়র) কমান্ড মানতে বাধ্য ছিলেন। এই সুপিরিয়র কমান্ড বিবেচনায় তাদের সাজা কম দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের আপত্তি এখানেই।'
তিনি আরও জানান, যারা সুপিরিয়র কমান্ডার ছিলেন, তাদের দায়িত্ব ছিল অধস্তনদের থামানো। তারা তা না করে উল্টো আদেশ দিয়েছেন, তাই তাদের কমান্ড রেসপনসিবিলিটিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।.

ট্রাইব্যুনাল আইনে সাজার বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা অন্য যেকোনো সাজা দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এই সাজা যথোপযুক্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, আমরা সেই সময়ের মধ্যেই পদক্ষেপ নেবো।'. .

Ajker Bogura / Md.Showrov Hossain

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ