বগুড়া প্রতিনিধি.
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী বেজোড়া তালতলা বন্দর এলাকায় তালাকপ্রাপ্ত এক যুবকের সঙ্গে এক তরুণীর একই কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই তরুণীকে যুবকের সঙ্গে আবারও চলে যেতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।.
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম মোছা. সাথী আক্তার (২২)। তার বাবা মো. শাহজাহান আলী পেশায় রিকশাচালক। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাথীর আগে আলামিন নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।.
পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৩) নামে এক যুবকের সঙ্গে সাথীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে নোমান ও সাথীর মধ্যেও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে বলে জানা যায়।.
স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছেদের পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ঘটনার দিন সাথীর মা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে নোমান ওই বাড়িতে আসেন। পরে তারা একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে।.
একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন ও গণমাধ্যমকর্মী সেখানে গেলে তাদের একই কক্ষে পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। এ সময় নোমানকে পোশাক পরিবর্তনের অবস্থায় দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে ওই কক্ষে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।.
পরে স্থানীয়রা তাদের কাছে পুনরায় বিয়ে হয়েছে কি না জানতে চান। এ সময় একটি কাগজ নিয়ে নোমান প্রথমে সেটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন এবং পরে সেটি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানান। একপর্যায়ে তারা জানান, বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে তাদের বিয়ে হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।.
ঘটনার পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের পুনরায় বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ জন্য একজন কাজীকেও ডাকা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে উভয় পরিবারের কেউ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হতে রাজি না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।.
পরে নোমানকে বাড়ি চলে যেতে বলা হলে তিনি পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাথীকে অন্য একটি প্রতিবেশীর বাড়িতে রাখা হয়। ওই প্রতিবেশীর দাবি, গভীর রাতে সাথী নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঁড়ি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে তার সঙ্গে চলে যান।.
সাথীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, তিনি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ বহন করেন। মেয়ের বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে কষ্টে আছেন। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হলে বিষয়টি জানাবেন বলেও জানান তিনি।.
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, পুনরায় বিয়ে হলে সাথীর এটি চতুর্থ বিয়ে হবে। তবে তার আগের বিয়ে ও বিচ্ছেদের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।.
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হোক।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: