বগুড়ার বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা সিপার আল বখতিয়ার বর্তমানে দলটির কোনো আনুষ্ঠানিক পদে আছেন কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে তাঁকে কোনো বর্তমান সাংগঠনিক পদধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সংবাদেও তাঁকে বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।.
একসময় বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সিপার আল বখতিয়ার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং বগুড়া শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পৌর রাজনীতিতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বগুড়া পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে চারবার নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।.
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও তাঁর নাম এসেছে। ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তাঁকে বগুড়া শহরের মালতিনগর হাইস্কুল এলাকার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলা সম্পর্কে বিচারিক নিষ্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায় না। ফলে পুলিশের উল্লেখ করা মামলার সংখ্যা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণের বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।.
২০১৮ সালে বগুড়া জেলা যুবদলের কমিটিতে সিপার আল বখতিয়ার সভাপতি ও খademুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হন। একই সময় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধও প্রকাশ্যে আসে। ওই বছর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন বাবলুকে মারধরের অভিযোগে সিপারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। মামলার অভিযোগে হামলা ও হুমকির কথা বলা হলেও সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই সংবাদে এসেছে।.
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় পরিবর্তন আসে ২০২০ সালে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি সিপার আল বখতিয়ারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করে। দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও সিপার আল বখতিয়ার তা অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।.
বহিষ্কারের পর বগুড়ায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা দেয়। তাঁর সমর্থকেরা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। পরে জেলা যুবদলের কমিটিও বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে সিপার আল বখতিয়ারকে ‘সাবেক জেলা যুবদল সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় করানো হচ্ছে।.
২০২৪ সালের শেষ দিকে বগুড়া বিএনপিতে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আলোচনা শুরু হলে সিপার আল বখতিয়ারের নামও আসে। তবে তাঁর বহিষ্কারাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন নিশ্চিত দলীয় ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে বর্তমানে বিএনপির আনুষ্ঠানিক পদধারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।.
তবে দলীয় পদ না থাকলেও বিএনপির রাজনীতি থেকে তিনি পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। ২০২৫ সালে বগুড়ায় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালেও তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বক্তব্য দেন। একই নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায়। সাম্প্রতিক এসব প্রতিবেদনে তাঁর পরিচয় হিসেবে ‘সাবেক জেলা যুবদল সভাপতি’ ও ‘সাবেক কাউন্সিলর’ ব্যবহার করা হয়েছে।.
অর্থাৎ, সিপার আল বখতিয়ারকে ঘিরে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো—একসময় তিনি বগুড়া বিএনপি ও যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং পৌর কাউন্সিলর হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ২০২০ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সেই সাংগঠনিক পদগুলো আর নেই। পরবর্তী সময়ে বহিষ্কার প্রত্যাহারের আলোচনা থাকলেও তা নিশ্চিত হওয়ার মতো দলীয় তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: