• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ০৭ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ইরানে যাওয়ার পথে মরুভূমিতে তৃষ্ণা ও দাবদাহে ১৯ আফগান অভিবাসীর মৃত্যু


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৩ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে অবৈধভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বিপজ্জনক মরুভূমির পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র দাবদাহ ও পানির সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন আফগান অভিবাসী। রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতরা সবাই দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাদঘিস প্রদেশের বাসিন্দা। উন্নত জীবনের আশায় ও কাজের সন্ধানে তারা দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ মরুভূমির পথ অতিক্রম করার সময় প্রচণ্ড গরম, পানির তীব্র সংকট এবং ক্লান্তিতে তারা একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।.

নিমরোজ প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে পাশের দাশ্ত-এ মার্গো মরুভূমি—যা ‘মৃত্যুর উপত্যকা’ নামেও পরিচিত—সেখান থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৪টি মরদেহ উদ্ধারের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই অভিবাসী দলের ১৯ জনই মারা গেছেন।.

প্রাদেশিক মুখপাত্র আব্দুল মুতাওয়াকিল তাওয়াহিদি বলেন, দুর্গম ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা সবাই বাদঘিস প্রদেশের একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।.

আফগানিস্তানের নিমরোজ প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পাকিস্তানে অবৈধভাবে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত। তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রীষ্মকালে এখানে তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হয়ে যায়। বিশাল বালিয়াড়ি, দুর্গম পথ এবং পানির উৎসের অভাবে প্রতিবছর অসংখ্য অভিবাসী তৃষ্ণা, তাপপ্রবাহ ও ক্লান্তিতে প্রাণ হারান।.

মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ না থাকায় অনেক আফগান নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব মরুভূমির পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতা, চরম তাপপ্রবাহ এবং পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।.

সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ