বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটের বকশিসের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের সাথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রী পৌঁছানোর পর গেটের বকশিসের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর পক্ষের অভিযোগ, কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাদের এক স্বজনকে কিছু সময় আটকে রাখারও অভিযোগ করা হয়েছে। বরের স্বজনদের দাবি, গেটের বকশিস হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে কনে পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বরযাত্রীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। তারা হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে গেটের বকশিসের বিষয়টি ৭০০ টাকায় সমাধান হয়। তবে কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী বলেন, গেটের বকশিসের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে বর পক্ষ বিয়ে না করেই চলে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করে। তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ (সামসিল আরিফিন)
আপনার মতামত লিখুন: