দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেসকোসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রিপেইড মিটার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রাহক অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। অনেকের অভিযোগ, আগের তুলনায় দ্রুত ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়, মাসিক বিভিন্ন চার্জ কাটা হয় এবং বিলের হিসাব সহজে বোঝা যায় না। যদিও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো বলছে, প্রিপেইড মিটার ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী হিসাব করে এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের সুযোগ কমায়।.
.
তবে যদি কোনো এলাকায় বিপুল সংখ্যক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত ও পর্যালোচনা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।.
.
গ্রাহকদের সাধারণ অভিযোগ.
.
রিচার্জের টাকা প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া।.
.
মাসিক মিটার ভাড়া বা অন্যান্য অনুমোদিত চার্জ কাটা।.
.
জরুরি (Emergency Credit) সুবিধা ব্যবহারের পর অতিরিক্ত সমন্বয় কাটা হয়েছে বলে ধারণা।.
.
রিচার্জের পুরো টাকা বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য না পাওয়া।.
.
বিলের বিস্তারিত হিসাব সহজে না বোঝা।.
.
নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এককালীন রিচার্জের চাপ।.
.
উল্লেখ্য: এগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগ; এগুলো সব ক্ষেত্রে প্রমাণিত বা সর্বজনীন সত্য নয়।.
.
আইন ও বিধিমালা কী বলে?.
.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC)-এর অনুমোদিত ট্যারিফ অনুযায়ী।.
.
আইন অনুযায়ী—.
.
বিদ্যুতের ট্যারিফ সরকার বা BERC-এর অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন করা যায় না।.
.
অনুমোদিত চার্জ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় বৈধ নয়।.
.
গ্রাহককে বিল ও চার্জের তথ্য জানার অধিকার দিতে হবে।.
.
অভিযোগ দাখিলের সুযোগ থাকতে হবে এবং তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে।.
.
গ্রাহকের অধিকার.
.
একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক হিসেবে আপনি—.
.
ব্যবহারের হিসাব জানতে চাইতে পারেন।.
.
কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে তার লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।.
.
মিটার পরীক্ষার আবেদন করতে পারেন।.
.
অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারেন।.
.
কেন অসন্তোষ বাড়ছে?.
.
বিশ্লেষকদের মতে কয়েকটি কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে—.
.
বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধি।.
.
প্রিপেইড ব্যবস্থার চার্জ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব।.
.
মিটারের তথ্য সহজভাবে না বোঝা।.
.
স্বচ্ছ তথ্য প্রদর্শনের সীমাবদ্ধতা।.
.
গ্রাহকসেবায় বিলম্ব।.
.
সম্ভাব্য প্রতিকার.
.
প্রিপেইড মিটারের সফটওয়্যার ও হিসাবের স্বাধীন প্রযুক্তিগত অডিট।.
.
প্রতিটি চার্জের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এসএমএস বা রসিদে দেখানো।.
.
গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সেল গঠন।.
.
গণশুনানির আয়োজন।.
.
প্রয়োজনে বিতর্কিত নীতিমালা পর্যালোচনা।.
.
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা বা নমনীয় রিচার্জ সুবিধা।.
.
আন্দোলন হলে কীভাবে হওয়া উচিত?.
.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকরা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও দাবি উত্থাপন করতে পারেন। তবে কোনো আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ, আইন মেনে এবং জনসম্পদ বা ব্যক্তির ক্ষতি না করে পরিচালিত হওয়া উচিত।.
.
উপসংহার.
.
প্রিপেইড মিটার থাকবে নাকি থাকবে না—এটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ যদি ব্যাপক ও যৌক্তিক হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা, হিসাব জনসম্মুখে ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজন হলে নীতিমালা সংশোধন করা। একই সঙ্গে অভিযোগও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় এবং প্রকৃত সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়।.
Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি
আপনার মতামত লিখুন: